নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৯ পিএম
শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীর সাহেব চরমোনাইয়ের হাতে সদস্য ফরম পূরণ করেন নজরুল ইসলাম। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) সংসদীয় আসনের আলোচিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম (নজু) গণঅধিকার পরিষদ ত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীর সাহেব চরমোনাইয়ের হাতে সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন।
এই দলবদলকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
নজরুল ইসলাম এর আগে গণঅধিকার পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাক প্রতীক নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ ডিসেম্বর নবীনগর হাইস্কুল মাঠে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে শেখ হাসিনা তাদের আসন ও অর্থের প্রস্তাব দিলেও তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনোই আপোষ করেননি এবং ২–৪টি আসনের বিনিময়ে কোনো জোটে যাবেন না। দেশের প্রয়োজনে জোট হলে তা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্মানজনক আসন সমঝোতার মাধ্যমে।
ওই জনসমাবেশেই গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে নজরুল ইসলাম নজুকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তার হাতে প্রতীক হিসেবে ট্রাক তুলে দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ডিসেম্বর নজরুল ইসলাম নজু নবীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

তবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সপ্তাহ না পেরোতেই তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে গণঅধিকার পরিষদ ত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন।
নজরুল ইসলামের কয়েকজন অনুসারী জানান, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগসহ নানা অস্থিরতা, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় রাজনীতির টানাপোড়েন ও স্থানীয় সমীকরণ মেলাতে না পারার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন এবং ট্রাক প্রতীক ছেড়ে হাতপাখা প্রতীক বেছে নেন।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম নজু বলেন, নবীনগরবাসীর জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার ভাষায়, গণঅধিকার পরিষদ তাকে কার্যত ‘সাগরের মাঝখানে ফেলে’ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক পথ বেছে নিতেই তিনি ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রকৃত কারণ ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে খুব শিগগিরই সবকিছু জনসমক্ষে স্পষ্ট হয়ে যাবে।