ময়মনসিংহ অফিস
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:২৮ পিএম
আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৩ পিএম
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তার হয়েছে ১৮ জন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাশর এলাকা
থেকে ওই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেনÑ ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা এলাকার
বাসিন্দা নূর আলম (৩৩), জেলার তারাকান্দা থানা এলাকার বাসিন্দা মো. শামীম মিয়া
(২৮), সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা তাকবির (২২), ঠাকুরগাঁওয়ের
বালিয়াডাঙ্গি থানা এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন (৪২), নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানা
এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া (২২) ও মাদারীপুরের শিবচর থানা এলাকার বাসিন্দা মো.
মাসুম খালাসী (২২)। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
(প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কারখানায়
উপস্থিত কর্মচারীদের উসকানি, স্লোগান দিয়ে কারখানার বাহিরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং
দিপুকে চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত
ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া দিপু হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের
অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু
চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড
কারখানার ভেতরে ছিলেন। কারখানার সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকলে দিপু চন্দ্র দাসকে
চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়।
রাত ৯টার দিকে দিপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে
দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে গাছে ঝুলিয়ে আগুন
ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে
অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পরে র্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার
করে। আসামিদের তিনদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।
তারা হলেনÑ পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ আলমগীর হোসেন (৩৮), কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেন (৪৬), শ্রমিক তারেক হোসেন (১৯), লিমন সরকার (২২), মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯) ও নিঝুম উদ্দিন (২০); ভালুকার বাসিন্দা আজমল হাসান (২৬) আশিকুর রহমান (২৫), কাইয়ুম (২৫) ও শাহিন মিয়া (১৯); ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মো. নাজমুল (২১)।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার
মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর যাবত তিনি পাইওনিয়ার
নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।