সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৫২ পিএম
অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নুর আলম।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত উচ্চতর গণিত বিষয়ের শিক্ষকদের এমপিও ও ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ফাইল আটকে রেখে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নুর আলমের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা রূপগঞ্জ উপজেলা ইউএনওর কাছে অভিযুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নুর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জের ৪৮টি মাধ্যমিক, ১০টি নিম্ন মাধ্যমিক, ১৯টি মাদ্রাসা ও ৫টি কলেজের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন অভিযুক্ত সিদ্দিক নুরে আলম। এখানে যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আশরাফ জুট মিল স্কুলের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তরিকুল ইসলাম, ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আব্দুল মাজীদসহ আরও অনেকের অভিযোগ, রূপগঞ্জের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উচ্চতর গণিত বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪০ জনের বেশি শিক্ষক নিয়ম অনুযায়ী এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে তাদের এমপিও ফাইল আটকে রেখে এমপিও ফাইল নিষ্পত্তির জন্য জনপ্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাদের ফাইল অনুমোদন না করে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু এটিই শেষ নয়, পরবর্তী সময়ে এমপিও কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও ইএফটি আবেদনেও একইভাবে পুনরায় ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, সাইফুল ইসলাম নামের এক শিক্ষকের কাছে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নুর আলম ঘুষ দাবি করেছেন, যা প্রমাণ হিসেবে অডিও রেকর্ড রয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযুক্ত সিদ্দিক নুরে আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ পুরোপুরি ভুয়া ও মিথ্যা। কোনো একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করাচ্ছেন। আমি ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা ইউএনও সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ঘুষ দাবি করার অভিযোগে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সিদ্দিক নূরে আলমের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা সহকারী কমিশনার ভূমিকে প্রধান করে তিন সদস্য একটি কমিটি করে দিয়েছি। ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন। ওই তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।