চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৪৬ পিএম
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কার্যালয়ে ভবন নির্মাণের অনুমতি ও নকশা অনুমোদন পেতে হলেও ঘুষ না দেওয়ায় ভবন নির্মাণের অনুমতিপত্র আটকে দেয় সিডিএর অসাধু কর্মকর্তারা। উল্টো ঘুষের দাবিতে নানা হয়রানি করা হয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুদক।
বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে অভিযানে নকশার অনুমোদনপত্র
আটকে রাখার সত্যতা পায় দুদক। দুদক ও সিডিএ সূত্র জানায়, ১৩ তলা ভবনের জন্য চট্টগ্রাম
নগরীর বাকলিয়ার সৈয়দ শাহ সড়ক এলাকার হাসান মুরাদ নামে এক ব্যক্তি আবেদন করেছিলেন। আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৩ মে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র (এলইউসি) পান। পরবর্তী সময়ে ২০২৩
সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ আবেদন এবং ২০২৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ভবনের অনুমোদন
দেয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে ওই বছরের ১৩ মে
নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু নকশা অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়নি ভবন মালিককে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ভুক্তভোগী পক্ষ দুদকের কাছে
অভিযোগ করেছিল। অভিযোগকারীর দাবি, অনুমোদনপত্র ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মোট
প্রায় ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন এবং এখনো অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
দুদকে দায়ের অভিযোগে হাসান মুরাদ উল্লেখ করেন, সিডিএ’তে
নকশা অনুমোদন হওয়ার পরও অনুমোদনপত্র ইস্যু করা হয়নি। বরং সিডিএ’র সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ
কামাল হোসেন, সহকারী অথোরাইজ অফিসার মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, তৎকালীন অথোরাইজ অফিসার-১
মোহাম্মদ হাসান, ডিএ আলমগীর তালুকদার, সেকশন অফিসার সুবীর বড়ুয়া অনুমোদনপত্র দিতে ঘুষ
দাবি করেন। অনুমোদনপত্র না দিয়ে নানা অজুহাতে অর্থ নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ভবন ভাঙা
ও জরিমানার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এমনকি মোটা অংকের ঘুষ না দেওয়ায় এক বছরের বেশি
সময় ধরে ফাইল আটকে রাখেন তারা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সিডিএ’তে অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, দুদকের প্রাথমিক তদন্তে অনুমোদনপত্র আটকে রাখার অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদেশ পর্যালোচনা করে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নকশা অনুমোদন পাওয়ার পরও অনুমোদনপত্র ইস্যু না করা একটি গুরুতর অনিয়ম। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবন নির্মাণের প্ল্যান অনুমোদনের জন্য ঘুষ দাবিসহ নানা অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।