চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৩ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১৯ পিএম
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আবারও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাপ্তাহিক গণশুনানিতে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা ও শিক্ষাসংকটে পড়া এক অসহায় স্কুলশিক্ষক এবং এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার খুদুকখালী গ্রামের মরহুম মালেকুজ্জামানের ছেলে স্কুলশিক্ষক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চান্দগাঁও থানাধীন শমসেরপাড়া এলাকার চট্টগ্রাম প্রাইভেট ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হন। এক সপ্তাহের চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি কিডনি, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগেও আক্রান্ত। স্ট্রোকের কারণে তার বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে নিয়মিত থেরাপি নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের প্রভাবে তার গলার খাদ্যনালি ও ফুসফুসে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। ফলে প্রায় এক মাস ধরে তাকে নাকের ভেতর নল দিয়ে তরল ও নরম খাবার গ্রহণ করতে হচ্ছে। দীর্ঘ ৮-৯ বছর ধরে হাইস্কুলে শিক্ষকতা করা আবুল কালাম আজাদের দুই ছেলে বর্তমানে কলেজে অধ্যয়নরত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার অসুস্থতায় পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে মানবিক আবেদন নিয়ে হাজির হন এই শিক্ষক। তার দুর্দশার কথা শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এদিন গণশুনানিতে হাজির হন কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর গ্রামের শিক্ষার্থী কেএম জয়নাল আবেদীন।
তিনি জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার পিতা ইসহাক আহমেদ বারী স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় পিতার চিকিৎসা ব্যয় ও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা জয়নালের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় পড়ে।
জয়নালের কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাকেও তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত জয়নাল বলেন, আগে সামাজিক মাধ্যমে মানবিক ডিসি জাহিদুল ইসলাম স্যারের কথা শুনেছি, আজ নিজে প্রমাণ পেলাম।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষ গড়ার একজন শিক্ষক শুধু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারবেন নাÑ এটা জেলা প্রশাসক হিসেবে মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। কলেজছাত্র জয়নালের বিষয়ে বলেন, পিতার চিকিৎসা ও নিজের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নিতে সে আমার সহায়তা চেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বাজেট সীমিত হলেও তিনি চেষ্টা করেন যেন কোনো অসহায় মানুষ সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ না করেন।