তানভীর আহমেদ, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০০ পিএম
আবহাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তায় ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার কারণে হঠাৎ করে সুনামগঞ্জে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ভিড় বেড়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে। গত এক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করে ঠান্ডা-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন নবজাতক ও শিশুরা। হাসপাতালের নির্ধারিত শয্যা সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি শিশুকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তথ্যমতে, গত ২০ নভেম্বর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৫১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ভর্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০ নভেম্বর ১১২ জন, ২১ নভেম্বর ১২৫ জন, ২২ নভেম্বর ১৩৯ জন, ২৩ নভেম্বর ১৩৫ জন, ২৪ নভেম্বর ১৩৭ জন, ২৫ নভেম্বর ১৪৮ জন শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার (২৬ নভেম্বর) হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১৫৫ জন শিশু, যা ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা (৫০ শয্যা) থেকে তিনগুণেরও বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, শয্যা সংকটে ফ্লোরে থাকা প্রতিটি শিশুর দিকেই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা শিশুদের জন্য নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে ওষুধযুক্ত বাতাস।
দিরাই উপজেলার কিতাম্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা জমির মিয়ার ৪০ দিন বয়সি ছেলে মাহিম। শুরুতে ঠান্ডাজনিত কারণে তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার দিন ভর্তি রাখা হয়। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। জমির মিয়া জানান, ‘শুরুতে দিরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছিল, অবস্থা খুব খারাপ হওয়ায় ডাক্তাররা সদর হাসপাতালে পাঠায়। এখানে এসে জানতে পারলাম নিউমোনিয়া দেখা দিয়েছে। ডাক্তার ভর্তি থাকতে বলছেন।
তাহিরপুর উপজেলার বড়দল গ্রামের ৩ মাস বয়সি মোয়াজও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত চার দিন ধরে সে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি। মোয়াজের বাবা লিটন মিয়া বলেন, ডাক্তার জানিয়েছেন নিউমোনিয়া হয়েছে এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
শহরের বড়পাড়ার ২ মাস বয়সি আলিফ হাসান গত দশ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। তার বাবা অমিত হাসান জানান, সন্তানের শ্বাসকষ্ট কমাতে নিয়মিত নেবুলাইজার দিয়ে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে ঠান্ডা নামায় এই সমস্যা।
শহরের হাসননগরের ৮ মাস বয়সি ছেলে জাকারিয়াও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত এক সপ্তাহ ধরে সে হাসপাতালে ভর্তি। জাকারিয়ার বাবা জহুর মিয়া বলেন, ‘ছেলের শরীরে ঠান্ডা লাগার কারণে নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিছে।
শিশু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্সরা জানান, হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এই কারণেই হাসপাতালে শিশুদের চাপ বেড়েছে। জনবল সংকটের মধ্য দিয়েও অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে, শীতে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জনবল সংকটের মধ্যেও সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দিতে।