চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৩:০২ পিএম
নগরীতে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তদারকি জোরদার করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ দেওয়া যাবে না।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মেয়র এসব কথা বলেন। সভায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার বিস্তার রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় চসিকের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে ‘বিটিআই’ নামে আমেরিকান প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশবান্ধব লার্ভিসাইড ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর নয়। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় জমাট পানিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মশা ও জলাবদ্ধতার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেন মেয়র।
এ লক্ষ্যে নবনিযুক্ত ৮ মশক ইন্সপেক্টরকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
চসিক মেয়র বলেন, নগরীতে মশা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ফগিং, লার্ভিসাইড প্রয়োগ, নর্দমা ও নালা পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কিছু ওয়ার্ডে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যারা দায়িত্বে অবহেলা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।