কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৪ পিএম
কুড়িগ্রামের শহীদ দুই সেনা সদস্যকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন সেনাবাহিনী। প্রবা ফটো
সুদানে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কুড়িগ্রামের যে দুই তরুণ সেনা সদস্য জীবন দিয়েছেন, তাদের শেষ ঠিকানা হলো জন্মভূমির মাটি।
অশ্রু জলে ভেজা বিদায়ের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের দুই গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই দুই শান্তিরক্ষী।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সুদানের আবেই অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মধ্যে কুড়িগ্রামের দুই সন্তান—মমিনুল ইসলাম (৩৮) ও শান্ত মন্ডল (২৬)। বিকালে জানাজা শেষে নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারযোগে দুই শহীদের মরদেহ কুড়িগ্রামে পৌঁছায়। এরপর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে মরদেহ নেওয়া হয় তাদের গ্রামের বাড়িতে।
শহীদ শান্ত মন্ডল কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাটমাধাই ডারারপাড় গ্রামের সন্তান। বাবা সাবেক সেনা সদস্য (মৃত) নুর ইসলাম মন্ডল, মা সাহেরা বেগম। আর মমিনুল ইসলাম ছিলেন উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের পারুলেরপাড় গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পারুলেরপাড় গ্রামে মমিনুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। জানাজা শেষে বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মমিনুলের পরিবার জানায়, মাত্র ৩৩ দিন আগে তিনি শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দিতে সুদানে গিয়েছিলেন তিনি।
ছেলেহারা মমিনুলের বাবা আব্দুল করিম কাঁপা গলায় বলেন, আমার ছেলেটা ভালো মানুষ ছিল বলেই আল্লাহ তাকে শহীদি মৃত্যু দিয়েছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছেলের মৃত্যুতে আমরা অসহায়। সরকার যদি আমার ছোট ছেলেটার একটা ব্যবস্থা করত, তাহলে পরিবারটা বাঁচত।
অপরদিকে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ গ্রামে শান্ত মন্ডলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বড় ভাই সেনা সদস্য সোহাগ মন্ডলসহ স্বজন ও এলাকাবাসী জানাজায় অংশ নেন। সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি দল তাকেও গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে বাবার কবরের পাশে নিজ বাড়ির আঙিনায় চিরনিদ্রায় শায়িত হন তরুণ এই সেনা সদস্য।
শান্তর বড় ভাই সোহাগ মন্ডল জানান, গত ৭ নভেম্বর শান্তিরক্ষী মিশনে সুদানে যায় শান্ত। এক বছর আগে তার বিয়ে হয়। স্ত্রী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।