শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৮ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:১০ পিএম
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বাড়িতে যাতায়াতের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গোলাম হোসেন (৬০) নামের এক চিংড়িচাষিকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের জাবাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম হোসেন ওই গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দিন মোড়লের ছেলে। ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছুরি ও ৯ নারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, অবরুদ্ধ একটি বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- এমান আলী মোড়লের ছেলে আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু সেলিম মোড়ল (৫০), সাইফুল মোড়ল (৩৫), ফারুক মোড়ল (৩২), বদর উদ্দিন মোড়লের ছেলে রেজাউল মোড়ল (৪০), রেজাউলের স্ত্রী মাছুমা বেগম (৩৫), সেলিম মোড়লের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৪০), সাইফুল মোড়লের স্ত্রী মাহফুজা বেগম (৩০), ফারুক মোড়লের স্ত্রী জহুরা খাতুন (৩০) ও এমান আলীর স্ত্রী সফুরা বেগম (৬৫)। নিহতের ছেলে হাফিজুর রহমান জানান, তাদের বাড়ির দীর্ঘদিনের পায়ে চলা রাস্তা সম্প্রতি প্রতিবেশী এমান আলী মোড়ল ও তার পরিবারের সদস্যরা বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে তার বাবা ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করলে প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হলে অভিযুক্তরা প্রথমে তার বাবার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাইফুল, ফারুক, সেলিম ও রেজাউল ধারালো অস্ত্র ও ছোরা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বন্ধু আব্দুর রশিদ বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও অভিযুক্তরা নির্ধারিত দিনে পরিষদে হাজির হয়নি। গোলাম হোসেন প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে তিনজন আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যু সিরাজুলের ভাই। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাকির হোসেন জানান, নিহতের পিঠ, বুক ও কাঁধসহ শরীরের চারটি স্থানে ছুরিকাঘাত ও কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। লোহার রড দিয়ে আঘাতের আলামতও রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন বলেন, ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তদের ধাওয়া করে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে ৯ জনকে আটক করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান। গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের ঘরবাড়ি ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।