মহম্মদপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:২১ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৪ পিএম
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সরবরাহ করা চাল ও ভোজ্য তেলের মান নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কার্ডধারী নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিযোগ, চাল থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছে এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল জমে সাদা হয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মহম্মদপুর সদর শিমুলের মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে টিসিবির পণ্য বিতরণের সময় ভুক্তভোগীদের এই ক্ষোভ দেখা যায়। কিছু টাকা সাশ্রয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য সংগ্রহ করার পর অনেকেই চাল ও তেলের মান দেখে হতাশ হয়ে পড়েন।
এ সময় পণ্য নিতে আসা কার্ডধারী নারী সালমা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, এই চাল দিয়ে ভাত রান্না করলে দুর্গন্ধে ঘরে টেকা যায় না, খাব কী করে। আর তেলের বোতল খুলতেই দেখি ভেতরটা ডালডার মতো জমে আছে।
কার্ডধারী দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই শীতির মধ্যি কষ্ট করে লাইনে দাঁড়ায়ে তেল নিয়ে থুইছি, সকালে আমার বউ রান্না করতি যায়ে দেখে তেল জমে সাদা হয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে নারকেলের তেল।’
স্থানীয় কয়েকজন মুদি ব্যবসায়ী জানান, শীতকালেও বিশুদ্ধ সয়াবিন তেল জমার কথা নয়। তেলের এই অবস্থা পাম অয়েল বা ভেজাল তেল হতে পারে।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো বা স্যাঁতসেঁতে চাল এবং নিম্নমানের ভোজ্যতেল জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের টিসিবি ডিলার ‘আইটি ল্যাব জেনারেল স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী আহাদুর রহমান বলেন, ‘টিসিবি আমাদেরকে যা দেয়, আমরা তাই বিতরণ করি। চাউল সংগ্রহ করি স্থানীয় ওএমএস ডিলার এর কাছ থেকে, চালের মান খারাপ হলে সেই দায় আমার নয়।’
আরেক ডিলার দীঘা ইউনিয়নের আশরাফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আনিস বলেন, ‘আমরা পণ্যের মান নিয়ে কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েছি কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি।’
চাল সরবরাহকারী ওএমএস ডিলার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সব বস্তা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। গোডাউনে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কিছু বস্তার চাল নষ্ট হতে পারে সে দায় গোডাউন কর্তৃপক্ষের। আমরা গোডাউন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, ব্যবস্থা না নিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেব।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সন্দীপ কুমার বলেন, গোডাউন থেকে নেওয়ার সময়ই চাল পরীক্ষা করে নেওয়ার নিয়ম। একবার নিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হয় না। তবে তেলের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঝিনাইদা জোনের টিসিবি কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।