কাপ্তাই
কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৭ পিএম
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির এক নীরব কিন্তু গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বহন করে চলেছে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার সবুজ সংঘ ক্লাব। স্বাধীনতা ঘোষণার এক থেকে দেড় মাস আগেই যেখানে শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, গড়ে উঠেছিল আন্দোলন ও প্রতিরোধের কেন্দ্র।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক ক্লাবটির সেই সময়ের নানা অজানা তথ্য ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, যা আজও এলাকাবাসীর কাছে গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে রয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সবুজ সংঘ ক্লাবটির বর্তমান সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী
ক্লাবটির ইতিহাস তুলে ধরে জানান, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই ওই ক্লাবে মিলিত হয়ে
যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা হয়েছিল। তাদের নেতৃত্ব দেন তারই বড় ভাই এবং প্রয়াত
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর উত্তম পদে ভূষিত ডা. মো. শাহ আলম চৌধুরী। এই ক্লাবের ব্যানারেই
তখন আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা করা হয়। ওখান থেকেই তৎকালীন চন্দ্রঘোনার বাসিন্দা বীর
প্রতীক একেএম ইসহাক, মো. আজিমসহ আরও সিনিয়র কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রস্তুতি
সম্পন্ন করেন। এ সময় মশাল মিছিল শেষ করে সবুজ সংঘে এসে তারা আশ্রয় নিতেন এবং সেখানেই পোস্টার
তৈরিসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। পরে সবুজ সংঘ থেকে পাশের ম্যাটারনিটি সেন্টারটিকে
মূল সদর দপ্তর হিসেবে বেছে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় সিনিয়রদের পাশাপাশি
উনি এবং উনার সহযোদ্ধা রমজান আলী, মো. বাদশা, সিরাজ ইসলাম বাঙালিসহ আরও কয়েকজন একসঙ্গে সংগঠিত হয়ে
অপারেশন পরিচালনা করতেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণার আগ থেকেই বীর উত্তম ডা. শাহ আলম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা
মো. মনসুরসহ (বাবলু) দুটি কাপড়ের বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত পতাকা, এক বান্ডেল নিউজ
প্রিন্টে লেখা জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রিন্ট করে নিয়ে এসে সংগ্রহে রেখেছিলেনÑ যা পরবর্তীতে
লিডার মাহাফুজ, সাবের আজম আজমেরি, এসএম ইউসুফ, ইন্দ্র নন্দন দত্ত ও উনার সংগ্রহে ছিল।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, তিনি এবং আরও দুই-তিনজন
সহযোদ্ধা চন্দ্রঘোনার কেপিএম এলাকার ১৪ নম্বর বাংলোয় একটি অভিযান পরিচালনা করেন। ওখানকার
পাহাড়ের ওপর একটি বড় ওয়্যারলেস টাওয়ার ছিল। যার মাধ্যম ব্যবহার করে পাকিস্তানিরা যোগাযোগ
করত। সেই টাওয়ারটির মেশিন তারা ওই সময় জব্দ করে নিয়ে আসেন। এতে ওই সময় পাকিস্তানিদের
যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
মুক্তিযুদ্ধে এইভাবে অবদান রেখে আসছিল ৫৮ বছরের পুরানো চন্দ্রঘোনার ঐতিহাসিক সবুজ সংঘ ক্লাবটি। তবে বর্তমানে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বয়সের ভারে জড়াজীর্ণ অবস্থায় আছে ক্লাবটি। দরজা, জানালাসহ উপরের টিনের চাল খসে পড়ছে। অনেকটা অবহেলিত ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ঐতিহাসিক ক্লাবটি।