অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৫৫ পিএম
মিষ্টি ও রসালো কমলার বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে রাঙামাটির কমলা বাগানিদের মুখে। এ বছর কমলার ভালো ফলনও হয়েছে। পাহাড়ের উঁচু-নিচু জমি ও আলো-বাতাস কমলা চাষের জন্য আদর্শ। পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে কমলা চাষের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়।
সাধারণত পাহাড়ে আনারস, আদা, কলা চাষের জন্যই বেশি পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ে দার্জিলিং ও চায়না জাতের কমলার দৃষ্টিনন্দন বাগানগুলোও সাড়া ফেলেছে। এসব বাগান দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন। এমনি একটি কমলার বাগানের দেখা মেলে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের পাশে। সরেজমিন দেখা যায়, পাহাড়ের জমিতে গাছে গাছে থোকা থোকা ঝুলছে রসালো কমলা। পথের ধারে কমলার ভারে নুয়ে পড়া গাছগুলো চলতিপথের যে কারও নজর কাড়ে। গাছে গাছে ঝুলছে ছোট-বড় কমলার বাহার। এ পথে চলাচলকারী পর্যটকটরা বাগানটি এক পলক দেখার জন্য গাড়ি থেকে নামতে ভুল করেন না। বাগানের সামনেই গাছ থেকে পেড়ে আনা তরতাজা কমলা বিক্রয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
কথা হয় কমলা বিক্রেতা সুবিমল চাকমা, পূর্ণেন্দু চাকমাসহ কয়েকজন বিক্রেতার সঙ্গে। তারা বলেন, ‘পাহাড়ের কমলা অনেক সুস্বাদু। তাই পর্যটকরা এ পথে যেতে এখানে নামেন। তারা কমলা কেনেন। গাছের তরতাজা কমলা সবখানে পাওয়া যায় না, তাই এই কমলাগুলোর চাহিদাও বেশি। আবার অন্যান্য স্থানের চেয়ে দামও তুলনামূলক কম।’
খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে কমলা বাগান দেখে যাত্রাবিরতি দেওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম, শামীমা আক্তারসহ কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে কথা হয়। তারা বাগানটি একনজর দেখতে এবং টাটকা কমলা কেনার জন্য যাত্রাবিরতি দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘এই কমলাগুলো সাধারণত শহরে কম পাওয়া যায়। কমলাগুলো দেখতে সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু।’ বিক্রেতারা জানান, আকারভেদে কমলা কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় কমলার চাষ কম হয়েছে। গত বছরও জেলার প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ হলেও এ বছর চাষ হয়েছে মাত্র ৪০০ হেক্টর জমিতে। চাষ কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘রাঙামাটি সদর উপজেলা ও নানিয়ারচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি কমলার চাষ হয়। তবে মাটির উর্বরতা ও আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় এবারে কমলার চাষ কিছুটা কমেছে।’ বাজারেও এবারে ছোট আকারের কমলার দেখা যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি আগামীতে পাহাড়ি অঞ্চলে কমলার চাষ বাড়বে। এক্ষেত্রে জেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমলা চাষে পরিচর্যার প্রয়োজন বেশি। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের চারা সংগ্রহ থেকে শুরু করে ফল আসা পর্যন্ত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রয়োজন। কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চল কমলার জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠবে বলেও তারা মনে করেন।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ের কমলার রয়েছে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা। তাই স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশপাশি এসব কমলা দেশের বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হয়। পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু ও আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য উপযোগী। একসময় সাজেকের কমলার খুব সুনাম ছিল। এখন নানিয়ারচর, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।