খুলনা
খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই খুলনার বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই খুলনা–২ আসনে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও অন্যান্য প্রচারসামগ্রী অপসারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও আচরণবিধি-সম্মত রাখতে এ উদ্যোগে প্রধান ভূমিকা রাখছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের আশা, তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পুরো খুলনা–২ আসনসহ আশপাশের এলাকায় সব প্রচারসামগ্রী অপসারণ সম্পন্ন হবে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ আরও শান্ত, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও বিধি-নিষিদ্ধ প্রচারণামুক্ত থাকবে।
তফসিল ঘোষণার পরপরই বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে কঠোর নির্দেশনা পাঠান যেন কোনোভাবেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করা হয়। তার নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অনুসারীরা খুলনার বিভিন্ন সড়ক, ওয়ার্ড ও বাজার এলাকায় প্রচারণা উপকরণ অপসারণে মাঠে নামেন।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে শহরের শিববাড়ী মোড়, নিউমার্কেট ও সোনাডাঙ্গা এলাকায় দেখা যায়, বিএনপির কর্মীরা ব্যস্তভাবে বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটানো পোস্টার তুলছেন ও ফেস্টুন নামিয়ে ফেলছেন।
এসময় বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের প্রার্থী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা চাই না নির্বাচনী পরিবেশের শুরুতেই কোনো অনিয়ম দেখা দিক। সেই লক্ষ্যেই আমরা রাতভর কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার আগেই সব প্রচারণা সামগ্রী সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।
দলটির আরেক নেতা আরিফুজ্জামান অপু জানান, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে আমরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে কাজটি করছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রশাসনের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন পড়ছে না। ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ শেষ করতে পারব।
এদিকে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও সক্রিয়ভাবে একই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে খুলনার বাইতিপাড়া এলাকায় দেখা যায়, দলটির বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার নিজ উদ্যোগে খুলে নিচ্ছেন কর্মীরা।
এসময় জামায়াতে ইসলামী খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাকে আমরা স্বাগত জানাই। সকাল থেকেই আমাদের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী অপসারণে কাজ করছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সব এলাকা পরিষ্কার হয়ে যাবে। খুলনা-আসনের জামায়াতের প্রার্থী অ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালও কর্মীদের অপসারণের কাজে সহযোগিতা করেন।
অপরদিকে পাইকগাছা-কয়রা (খুলনা-৬) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ নিজ উদ্যোগে সকল প্রচার নির্বাচনী ব্যানার ফেস্টুন সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন । এ কাজে দলীয় কর্মীদের সাথে নিজেই হাত লাগান।
জেলার খুলনা–৫ নির্বাচনী আসনের পরিচালক মুন্সী মিজানুর রহমান ও সদস্যসচিব মিয়া গোলাম কুদ্দুস এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁদের সব ইউনিটকে পোস্টার, ফেস্টুন, প্যানা, প্রতীকসহ সব প্রচার উপকরণ দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় নাগরিকেরা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এ ধরনের দ্রুত ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত উদ্যোগ নির্বাচনী পরিবেশকে সহনশীল ও নিয়মতান্ত্রিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহরের নিউমার্কেট, নিরালা, শিববাড়ী মোড়সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে পোস্টার অপসারণের দৃশ্য চোখে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশিরভাগ দল স্বেচ্ছায় কাজে নেমে পড়ায় এখনও কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
অতিরিক্ত বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে আছি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতামূলক মনোভাব কাজটি আরও সহজ করে দিয়েছে।