কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০৪ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট এলাকায় বাঁকখালীতে নদীবন্দরের দখলমুক্ত জায়গায় সীমানা পিলার স্থাপন কার্যক্রম উচ্ছেদ হওয়া স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে ভন্ডুলের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে বাস্তবায়নাধীন কক্সবাজার নদীবন্দরের বন্দর কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াকিল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেনÑ জেলা যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসমাঈল, ঠিকাদার আতিকুল ইসলাম, শাপলাপুর ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, ঠিকাদার আতিকুলের কর্মচারী মোহাম্মদ আজাদ, আইনজীবী সৈকত দে, মোহাম্মদ ইউসুফ, সাইফুদ্দিন খালেদ, ব্যবসায়ী আদনান সাউদ, হান্নান সাউদসহ অজ্ঞাত ৪০০ জন।
মামলায় পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল অভিযোগ করেছেন, ২০১৯ সালের এক যৌথ জরিপে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর (বিআইডব্লিউটিএ) শহরের কস্তুরাঘাটসহ আশপাশের এলাকায় কক্সবাজার নদীবন্দর নির্মাণের জন্য জমি নির্ধারণ করে। নদীবন্দরের নির্ধারিত ওই জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করেছিল স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিগত দিনে একাধিকবার নোটিস প্রদানসহ নানা চেষ্টা চালিয়েও তাদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ গত ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিআইডব্লিউটিএ কস্তুরাঘাট এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী তীরের ৬৩ একর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। আর ওই দখলমুক্ত জায়গা পুনরায় দখল রোধে সীমানা চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ।
কিন্তু ৭ ডিসেম্বর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিআইডব্লিউটিএ সীমানা পিলার স্থাপন কার্যক্রম চালাতে গেলে বাধা দেন উচ্ছেদকৃতরা। এতে নদী বন্দরের দখলমুক্ত জায়গার সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম ভন্ডুল হয়ে যায়।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন জানান, নদীবন্দরের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ভন্ডুলের অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।