আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:১১ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:২৭ পিএম
লিবিয়ায় মুক্তিপণের দাবিতে তিন বাংলাদেশীকে অপহরণের পর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ও অডিও রেকর্ড পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে।
অপহরণকারী চক্রটি ডাচ বাংলা ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখার একটি হিসাব নম্বরে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে বলেছেন। এতে দেশে থাকা পরিবারের সদস্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে দুটি পরিবার মুক্তিপণের জন্য কিছু টাকা পাঠিয়েছেন।
লিবিয়ায় অপহৃত প্রবাসীরা হলেন, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের গুডুম্বা গ্রামের গোলাম রব্বানী, একই ইউনিয়নের পুন্ডুরিয়া দক্ষিণ মন্ডল পাড়া গ্রামের আব্দুল করিম। একই উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের রামশালা গ্রামের রুহুল আমিন। এরমধ্যে গোলাম রব্বানীকে পনেরো দিন আগে আর অন্য দুজনকে ছয়- সাত দিন আগে অপহরণ করা হয়েছে। এমনটাই দাবি করছে তাদের পরিবার। রুহুল আমিন ও আব্দুল করিম সর্ম্পকে শালা-ভগ্নিপতি।
গোলাম রব্বানীর স্ত্রী মোছাঃ জুথি আক্তার বলেন, আমার স্বামী গোলাম রব্বানী ২০১৫ সালে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় কাজের জন্য যান। এরমধ্যে কয়েক বছর কাজ করে ছুটিতে বাড়িতে এসে গত ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে আবারও লিবিয়ায় যান। সেখাকানকার জিলথান শহরে থাকেন। গত ১৫ দিন আগে রঙের কাজের কথা বলে একটি মাফিয়া চক্র আমার স্বামীকে অপহরন করেন। চলতি বছরের গত ৩০ নভেম্বর আমার স্বামীর মুঠোফোন থেকে আমার মুঠোফোনে কল করে অপরহরণের ঘটনা জানিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের ৩০ লাখ টাকা ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ঢাকার মতিঝিল কর্পোরেট শাখার হিসাব নম্বর- ২৭৬১৫৭০৩২৬৮৪০, রাউটিং নম্বর- ০৯০২৭১৩৯৯ জমা দিতে বলেন। এরপর তাঁরা আমার স্বামীর হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে দেন। এখন তাঁরা ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছেন। ওই টাকা না দিলে তাঁরা আমার স্বামীকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছেন। আমি গত ৮ ডিসেম্বর আমার স্বামীকে উদ্ধারে প্রবাসী কল্যাণের ওয়েজ অর্নার বোর্ডের সহযোগীতা চেয়ে মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছি।
মোছাঃ জুথি আরও বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে স্বামীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। তাঁরা সব সময় শুধু টাকা চাচ্ছেন। এত টাকা দেওয়ার মতো আমার সামর্থ নেই। জানি না এখন আমার স্বামী কি অবস্থায় আছে।
লিবিয়ায় অপহৃত মো. আব্দুল করিম মন্ডলের স্ত্রী তাসলিমা বিবি বলেন, আমার স্বামী ১৩ বছর ধরে লিবিয়ায় রয়েছেন। গত বছরে আট মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিল সে। চলতি বছরের গত সাত মাস আগে আবারও লিবিয়াতে গেছে। গত ৬ ডিসেম্বর আমার স্বামী ও আরেক জনকে রঙের কাজ করানোর জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। তাঁরা সেখানে গিয়ে কাজের চুক্তি করেন। রঙ কেনার নাম করে তাঁদেরকে আটকে রেখে বাড়িতে কল দিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। ইতিমধ্যে মুক্তিপণের কিছু টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
অপহৃত রুহুল আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী আটক হওয়ার আগে আমাকে মুঠোফোনে কল দিয়ে জানিয়েছিল, সে কাজ দেখতে যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর সে লিবিয়ায় থাকা এক বড় ভাই ও আমাকে একটি গাড়ির ছবি তুলে পাঠায়। এঘটনার একদিন পর আমার স্বামীর মুঠোফোন থেকে আমাকে কল ও নির্যাতনের অডিও রের্কড পাঠিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এখন তারা সর্বশেষ ১২ লাখ টাকা দাবি করছেন। আমরা অনেকে কষ্টে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা পাঠিয়েছি।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, লিবিয়ায় গিয়ে তিনজন অপহরণ হয়েছে বিষয়টি জেনেছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।