কুমিরা-গুপ্তছড়া রুট
কামরুল হাসান, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:২৯ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০১ পিএম
বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় নৌযাত্রা আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও সহজ হয়েছে। এতাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটেই নতুন সি-ট্রাক ‘এসটি নিঝুম দ্বীপ’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। যাত্রীদের তীব্র আপত্তি এবং অতীতের একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এ উদ্যোগে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপবাসী।
সন্দ্বীপকে উপকূলীয় নৌবন্দর ঘোষণার পর বাঁশবাড়িয়া ও গুপ্তছড়াÑ দুই পয়েন্টেই আধুনিক ও নিরাপদ ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। এই রুটে নাব্য কোনো সমস্যা না থাকায় ফেরি ও সি-ট্রাক সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে এবং যাত্রীরাও নিরাপদে ওঠানামা করতে পারেন।
অন্যদিকে কুমিরা পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে নাব্য সংকট প্রকট। ভাটা বা জোয়ারÑ দুই সময়েই জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারে না। বাধ্য হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সাগরে নোঙর করে ছোট লালবোট বা অনুমোদনবিহীন নৌযানে যাত্রীদের ওঠানামা করতে হয়। উত্তাল সাগরে লালবোটে ওঠানামার সময় অতীতে বহু ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে অনেক মানুষের।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানান, নতুন সি-ট্রাকটি পরীক্ষামূলকভাবে বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিসি তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান জানিয়ে বলেছে, পূর্বে চলাচলকারী ‘এমভি মালঞ্চ’ প্রত্যাহার করে তার বদলে ‘এসটি নিঝুম দ্বীপ’ আনা হচ্ছে, যা চলবে কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটেই।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক সি-ট্রাক যুক্ত হলেও কুমিরা রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা নেই। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ লালবোটে ওঠানামা করতে হয় বলে যাত্রীচাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
সন্দ্বীপে নিরাপদ নৌ যাতায়াত দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসা কাজী জিয়া উদ্দিন সোহেল বলেন, কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটের অতীতের দুর্ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে পথটি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন সি-ট্রাক অবশ্যই বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে চালু করতে হবে।
সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্দ্বীপবাসীর সুবিধার জন্য নতুন সি-ট্রাক দেওয়া হয়েছে। যদি এটি বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে না চলে, তাহলে কোনো সুফল মিলবে না। সন্দ্বীপবাসীর দাবি উপেক্ষা করা হলে সন্দ্বীপবাসীকে নিয়ে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। সন্দ্বীপবাসীর একটাই দাবি, নতুন সি-ট্রাক অবশ্যই নিরাপদ ও আধুনিক বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটেই চালু করতে হবে এবং পল্টুন-টু-পল্টুন সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।