রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৫ পিএম
ক্যান্সারে আক্রান্ত চার বছরের শিশু মর্তুজা আলী ভূঁইয়া। প্রবা ফটো
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্যান্সারে আক্রান্ত চার বছরের শিশু মর্তুজা আলী ভূঁইয়া। যার এই বয়সে পৃথিবীর আলো এবং খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা। আজ সেই মর্তুজা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
সন্তানকে বাঁচাতে ওই শিশুর মা শিল্পী রানী আকুতি করলেও কোন খোঁজখবর নেননা শিশুটির বাবা নুর আলম ভূঁইয়া।
মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত মর্তুজার মা শিল্পী রানী বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, গত সাত মাস আগে শিশু মর্তুজা আলী ভূঁইয়ার ডান চোখে একটি টিউমার ধরা পড়ে। পরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে মর্তুজার চোখের অপারেশন করা হয়। পরে ওই চোখেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর আগে বরাবর এলাকার কাসেম মিয়ার ছেলে নুর আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে ঘর আলো করে আসে সন্তান মর্তুজা আলী ভূঁইয়া। তবে অসুস্থ সন্তানকে রেখে তার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। একদিনও খোঁজ খবর নেন না।
শিল্পী রানী জানান, তিনি একটি সুয়েটার কারখানায় চাকরি করতেন। তবে সন্তানের সেবা-যত্ন নেওয়ার জন্য চাকুরিটিও ছেড়ে দিতে হয়েছে। এদিকে ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আড়াই লাখ টাকা ধার দেনা হয়ে গেছে। এখন চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন ৭ থেকে ৮ বার কেমোথেরাপি নিতে হবে। এজন্য প্রতিবার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হবে। এই অর্থ যোগাড় করতে তিনি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সন্তানের জন্য সরকারি ভাবে ও বিত্তশালীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি ।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, অন্যান্য শিশুরা স্বাভাবিক ভাবে খেলাধুলা করলেও মর্তুজা সেভাবে খেলাধুলা করতে পারে না। মর্তুজার মা শিল্পী রানী কোন আয় না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়। প্রথম দিকে ধার দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখন একমাত্র শিশু সন্তানকে বাঁচাতে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ কে শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান তারা।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মর্তুজাকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারিভাবেও আরও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব।