জয়পুরহাট ও দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:২৩ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
সীমান্ত নিরাপত্তায় কড়াকড়ি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নভেম্বর মাসজুড়ে রংপুর উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নে পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৪ কোটি টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ এবং দশজন পাচারপ্রবণ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে বাহিনী। একই সঙ্গে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বিজিবি।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজিবির রংপুর উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন ২৯-ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন দিনাজপুর সেক্টরের
গুলজার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজিবির দিনাজপুর
সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান, ২৯-ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএম জাবের বিন জব্বার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। এ সময় দিনজপুর
সেক্টরের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তানিম হাসান খানসহ জয়পুরহাট, দিনাজপুরের
গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন, এ বছরের নভেম্বর মাসে এই রিজিয়নের চারটি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়ন অভিযান
চালিয়ে ৪৮ জনকে আটক করেছে। তারা মাদক ও চোরাচালানে জড়িত। এক মাসে বিপুল পরিমাণ ভারতীয়
মাদক, প্রসাধনী, ওষুধ, পোশাক, জিরা, ধান, চিনি, পেঁয়াজ, আপেল, মোটরসাইকেল, সাইকেল,
মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ছয় রাউন্ড গুলিসহ তিনটি বিদেশি ওয়ান শুটারগান এবং প্রায়
দুই কেজি গান পাউডার জব্দ করা হয়েছে।
চোরাচালান রোধের
পাশাপাশি মানব পাচার প্রতিরোধে এক মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে একজন ভারতীয় নাগরিকসহ ১০
জনকে পাচারকারীদের উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ইলিশ পাচার রোধ, জাল টাকা পাচার রোধ ও আন্তঃসীমান্ত
অপরাধ প্রতিরোধে বিজিপির টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক
বজায় রাখতে এই সময়ে বিজিবি ও বিএসএফ বিভিন্ন পর্যায়ে ৪১৩টি পতাকা বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ
অনুষ্ঠিত হয়েছে। সীমান্ত রক্ষায় সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলার ৬১ বিজিবির
আওতায় চতুরবাড়ী বিওপি স্থাপন করা হয়েছে।
সামরিক দায়িত্বের
বাইরেও বিজিবি সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণে গত ২৯ নভেম্বর দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায়
৩০০ জন গরিব ও দুস্থ এবং একশ জন শিশুর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি একটি
মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে স্থানীয় ৫০৯ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা
ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন পর্যায়ে
২ হাজার ৫৮৬টি জনসচেতনতামূলক সভা করে স্থানীয় জনগণকে সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতন
করা হয়েছে।
দিনাজপুর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, সীমান্ত যেহেতু স্পর্শকাতর, সীমান্তের ওপারে যেহেতু আরেকটা দেশের সীমান্তের বাহিনী আছে এবং তারা সশস্ত্র অবস্থায় থাকে। এই কারণে সীমান্তে কোনো অপারেশনে যদি র্যাব যায়, তখন গোলাগুলি হলে এর জন্য বিএসএফের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। এজন্যই বলা হয়েছে যে, কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অপারেশনে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাহিনীরা আমাদের সাথে নিলে কোনো সমস্যা হবে না।