চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০১ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:০৭ পিএম
চট্টগ্রামে ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতিতে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতক। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামে একসঙ্গে পাঁচ সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর সন্তানের পিতা-মাতা হলেন এক দম্পতি। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটায় জন্ম নেওয়া সন্তানদের মধ্যে দুইটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে।
প্রসূতি এনি আক্তার ও ওয়াহিদুল ইসলাম-এই দম্পতি যুগল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও নবজাতক সকলেই সুস্থ আছেন। তবে নবজাতকদের ঝুঁকি এড়াতে তাদের পার্কভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াহিদুল ও এনি আক্তারের বিয়ের ১০ বছর পার হলেও তাদের সংসারে কোনো সন্তান হচ্ছিল না। পরে তিনি রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমির শরণাপন্ন হন। ডা. ফরিদা ইয়াসমিনের দেওয়া পরামর্শ ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশনের (আইইউআই) পদ্ধতি গ্রহণ করে প্রথম মাসেই সাফল্য পান তারা। বলে রাখা প্রয়োজন, ইনট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন হচ্ছে কৃত্রিম গর্ভধারণের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
তারা আরও জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর নবজাতক সন্তানরা তাদের পরিবারের জন্য এক নতুন আনন্দের বন্যা নিয়ে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মা ও নবজাতকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুরো জন্মপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, পাঁচ নবজাতকের মধ্যে তিনজনের ওজন যথাক্রমে ১ হাজার ৬০০ গ্রাম, ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ও ১ হাজার ৪০০ গ্রাম। বাকি দুই নবজাতকের ওজন প্রায় ১ কেজি করে। নবজাতক সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
নবজাতকগুলো নগরীর বেসরকারি পিপলস হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নবজাতকদের ৭২ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখতে হবে।