টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১০ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম
সেন্টমার্টিন থেকে উদ্ধারকৃত বর্জ্যের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজার টেকনাফের সেন্ট মার্টিন সৈকতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কেওক্রাডং বাংলাদেশ এর এইটি সেন্টমাটিনে ১৫ তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
দুই দিনব্যাপী এ অভিযানে প্রায় ১৮৫০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফে অপসারণ করা হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী পরিছন্ন অভিযানটি শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে শেষ হয়। অভিযানটিতে অংশ নেন সেন্ট মার্টিনের বিভিন্ন পেশার মানুষ। তাছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকও এতে অংশ নেন। ইউনিলিভার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।
কেওক্রাডং বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মুনতাসির মামুন বলেন, দুই দিনব্যাপী সেন্ট মার্টিনের অলিগলি ও সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্লাস্টিক বোতল, প্লাস্টিকের প্যাকেটসহ নানা ধরনের অপচনশীল ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সংগঠনের উদ্যোগে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটিতে এর আগেও এ ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনের মতো ছোট দ্বীপে পড়ে থাকা প্লাস্টিক যদি মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা না হয় তবে এর পরিণাম শুধু এই দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ছড়িয়ে পড়বে বঙ্গোপসাগরেও। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস ছিল সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পরিণামকে যতটা সম্ভব সীমিত করা।
তিনি আরও যোগ করেন, সেন্টমার্টিনে খুব সীমিত সংখ্যক পর্যটক আসতে দেওয়া দরকার, তবে সারা বছর পযর্টক আসার সুযোগ দিলে ভালো হয়। এইভাবে হলে বেশি পর্যটকের চাপ পড়বে না সেন্টমাটিনে।
কেওক্রাডং বাংলাদেশেকে স্বাগত জানিয়ে সেন্ট মার্টিনের ইউপি সদস্য ছৈয়দ আলম বলেন, সেন্ট মার্টিনকে পরিষ্কার রাখার জন্য ১৫ বছর ধরে সংগঠনটি এই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ভাবে সবাই এগিয়ে এসে নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে সেন্ট মার্টিনের জন্য খুবই উপকারী হবে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি প্রতিবছরের মত এ বছরও সেন্ট মার্টিনে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়েছে, যা সেন্ট মার্টিনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ও উপকারী।
তিনি আরও বলেন, এখানকার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রতিবছর হাজারো পর্যটক আসেন। এতে সৈকতে নানা ধরনের বর্জ্য জমা হয়ে থাকে। কেওক্রাডংয়ের মত সংস্থার প্রশংসনীয় উদ্যোগের কারণে দ্বীপের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।