চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২০ পিএম
বিএসএফের পুশইনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় অন্তঃসত্ত্বা নারী সোনালি ৫ মাস ৮ দিন পর অবশেষে তার নিজ দেশে ফিরে গেছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন দিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় তার সঙ্গে ফিরেছেন ৮ বছর বয়সী ছেলে সাব্বির শেখ।
এর আগে ২৬ জুন সোনালিসহ ৬ জন ভারতীয়কে কুড়িগ্রামের একটি সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ঠেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থানরত সোনালি খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির একটি আদালত। গত বুধবার সোনালি ও তার ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে সে দেশের কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মত হওয়ার কথা বুধবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর এজলাসে জানান। আদালত বলেছেন, সোনালিদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরত এনে তাদের চিকিৎসার বন্দোবস্তও সরকারকে করতে হবে।
জানা গেছে, ওই ছয় ভারতীয় কুড়িগ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীনগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে ২০ আগস্ট পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই এনামুল হক বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। দুজন শিশু হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই ভারতীয়রা হলেন- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার পাকুরের বাসিন্দা দানিশ শেখ (২৮), তার স্ত্রী সোনালি বিবি (২৬), সুইটি বিবি (৩৩), মো. কুরবান দেওয়ান (১৬), সোনালী বিবির সন্তান সাব্বির শেখ (৮) এবং সুইটি বিবির সন্তান মো. ইমাম দেওয়ান (৬)।
আসামী পক্ষের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু জানান, ১ ডিসেম্বর শুনানি শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম ৪ ভারতীয়র জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর ওই রাতেই তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে আত্মীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বাড়িতে উঠেছিলেন। তবে দেড় ঘণ্টা পরই পুলিশ আবারও তাদের হেফাজতে নেয়। পরে ২ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে তাদের আবার ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর থেকেই নয়াগোলায় তারা অবস্থান করছিলেন।
এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক বেলার বলেন, শুক্রবার রাতে মানবিক কারণে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি ও তার ৮ বছরের ছেলে সাব্বির শেখের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি চারজনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে তাদেরও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।