ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:০৯ পিএম
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অবৈধ সার ডিলার ও মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সরকারের বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সার উদ্ধারসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান, উপজেলা কৃষি বিভাগ ও থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান জানান, এবার শৈলকুপা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সরকারি সার বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করার কারণে সাধারণ কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। এমন খবরে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। শুরুতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা পৌর শহরের পাইলট স্কুল মার্কেটের একটি তালাবদ্ধ গোপন গোডাউনে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। এসময় ১১০ বস্তা টিএসপি ও ৭৫ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।
একইসময়ে পাইটল হাইস্কুল রোড এলাকায় মেসার্স জীম ট্রেডার্সে অভিযান পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সিরাজুল ইসলামকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া তার গুদাম থেকে ১৬৫ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে খুলুমবাড়িয়া বাজারে অবৈধভাবে সার রাখার অপরাধে আবু দাউদ নামের এক খুচরা ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া তার দোকান থেকে ১৩৩ বস্তা ইউরিয়া, এমওপি ১৫৬ বস্তা ও দুই বস্তা ডিএপি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত এসব সার সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, অবৈধভাবে সার মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা সার মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অবৈধভাবে কোথাও কোনো সার মজুদ করলে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে কৃষি অফিস শৈলকুপার বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি নোমান পারভেজ কে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে শোকজ করেছে। কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তার সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। সেনা অভিযানে তিনি গা ঢাকা দেন।
প্রসঙ্গত, পেঁয়াজ চাষের ভরা মৌসুমে শৈলকুপায় ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরী হওয়ায় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় এসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর কৃষি অফিস তৎপরতা শুরু করে। ডিলারদের মজুতদারী রুখতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।