রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১২ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আন্দোলনে থাকা সাত প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ফাতেমা ফেরদৌসীর স্বাক্ষর করা পৃথক নোটিশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে সারাদেশের মতো রামগঞ্জের সহকারী শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। শোকজ পাওয়া সাতজন শিক্ষকও এ আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন— রামগঞ্জ উপজেলার নাগমুদ বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার, সহকারি শিক্ষক প্রিয়াংকা রাণী ভৌমিক, ফেরদৌসি বেগম, জয়পুরা এসআরএমএস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুকবুল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক নুরুন নাহার, মেহেদী হাসান ফরিদ ও মর্জিনা আক্তার।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই প্রেস ব্রিফিং করেছেন— যা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির লঙ্ঘন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ ছাড়া গত ৩ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুকবুল হোসেন, সহকারী শিক্ষক নুরুন নাহার, মেহেদী হাসান ফরিদ ও মর্জিনা আক্তারকে শোকজ করা হয়। একই অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ত থাকার কারণে প্রিয়াংকা রাণী ভৌমিক ও ফেরদৌসি বেগমকেও শোকজ করা হয়েছে।
আবুল বাশারকে পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ২০১১ সালের পরিমার্জিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারবিষয়ক আদেশ অমান্য করে ফেসবুকে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং ১ ডিসেম্বর অনুমতি ছাড়া প্রেস ব্রিফিং করেছেন। এছাড়া ২ ডিসেম্বর তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছেন।
শোকজ নোটিশ নিয়ে দুইজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নোটিশ হাতে পাওয়ার পর তারা জবাব দেবেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা ফেরদৌসী বলেন, শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছেন। সরকারি আদেশ ও নির্দেশ অমান্যের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে কি না তা নির্ভর করবে তাদের গ্রহণযোগ্য লিখিত জবাবের ওপর। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছে।