ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:১০ পিএম
ফরিদপুরে জুতার আঠা, ফিটকিরি, নিন্মমানের চিটাগুড় (গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত), নিষিদ্ধ হাইড্রোজ, ক্ষতিকর রং ও ফ্লেভার, পচা মিষ্টি. মিষ্টির নষ্ট গাদ, ময়দা, সোডাসহ নানা বিষাক্ত উপাদান দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে মনকে মন ভেজাল খেজুর ও আঁখের গুড়। যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ফরিদপুর সদরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন একটি কারখানার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখান থেকে সাড়ে ছয় হাজার কেজি ভেজাল গুড় জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানা সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। মালিকের খোঁজ না পাওয়ায় পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের শিবরামপুর ছোট বটতলা এলাকায় স্বপন কুমার শীল নামের এক ব্যক্তির ভেজাল গুড়ের কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আতিকুর রহমান। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আজমল ফুয়াদ, জেলা ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চারদিকে উচু টিনের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং একাধিক সিসি ক্যামেরা লাগানো অত্যান্ত নোংরা ও স্যাতস্যাতে জায়গায় কারখানাটিতে রাত—দিন চলতো ভেজাল গুড় উৎপাদন। প্রতিদিন রাতের আঁধারে ট্রাকে করে আনা হতো ভারতীয় নিন্মমানের চিটা গুড়। টনকে টন ভেজাল গুড় উৎপাদন হতো এ কারখানায়। এসব গুড় ঢাকা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। বাজারে খেজুর রস পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে খেজুর গুড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানাটিতে ভেজাল গুড় উৎপাদন করা হলেও প্রশাসনের কেউ এসে দেখেনি। কারখানার মালিক স্বপন কুমার শীল প্রভাবশালী একটি মহলকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্মটি করে আসছিল। স্থানীয়দের কখনও ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হতো না। সিসি ক্যামেরা দিয়ে সব সময় নজরদারী করা হতো। বিভিন্ন সময় কারখানাটিতে ভেজাল গুড় উৎপাদন করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ছড়িয়ে দিলেও রহস্যজনক কারনে কারখানাটিতে অভিযান চালায়নি প্রশাসন।
সম্প্রতি, ভেজাল গুড় তৈরী হচ্ছে এমন অভিযোগের দাবি জোরালো হয়। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য কতৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানের সময় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোঃ আতিকুর রহমান। এসময় তার সাথে ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আজমল ফুয়াদ, জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান, জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রশিদ।