সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৫৩ পিএম
অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৩৯২ শতাংশ জমির দখল প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রবিবার (৩০ নভেম্বর) পরিমাপ শেষে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশানা টাঙিয়ে ওই জমির দখল হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকৃত জমি উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ উলাইল মৌজায় অবস্থিত।
জমির প্রকৃত মালিক ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত জিন্নত আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাইবোন এবং প্রতিবেশী লাল মিয়া ও তার শরিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ উলাইল মৌজার ৩৯২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে লাল মিয়া, তার শরিক ও তাদের পূর্বপুরুষরা জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নেন এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। অনেকেই বিরোধপূর্ণ জমি ক্রয় করে চাষাবাদ ও ঘরবাড়ি করে বসবাস করতে থাকেন। এরই প্রেক্ষিতে জমির বৈধ মালিকানা দাবি করে ২০০০ সালে লাল মিয়াসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে সিংগাইর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন। ২০১১ সালে দেলোয়ার হোসেন ও শরিকদের জমির বৈধ মালিক ঘোষণা করে মামলার রায় দেন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আদালতে আপিল করলেও তা ২০১৫ সালে খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাইকোর্টে আপিল করেও হেরে যান বিবাদী পক্ষ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১৭ নভেম্বর দখলীয় পরওয়ানা জারি করেন সিংগাইর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ রুমী খাতুন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকদের ৩৯২ শতাংস জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জমি কিনে প্রতারণার শিকার হওয়া কয়েকজন বলেন, ‘আমরা রসিদ মনির শাহজাহানদের মাধ্যমে জমি কিনেছি। জীবনের সব সহায়-সম্বল দিয়ে এই জমি ক্রয় করেছি। ৮-১০ বছর ধরে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি। এত দিন কেউ কখনও বলেনি যে, জমি নিয়ে কোনো সমস্যা আছে। আমাদের কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। অথচ হঠাৎ এসে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। যদি জানতাম জমি অবৈধ, তাহলে কখনোই আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এমন জায়গা কিনতাম না।’
সাবেক মেম্বার তমিজ উদ্দীন বলেন, কিছু অসাধু জমি ব্যবসায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাইরের লোকদের কাছে এসব জমি বিক্রি করেছিলেন। জমির আসল মালিক পরিবারটি দুর্বল হওয়ায় বিশেষ করে ছেলেরা বিদেশে থাকায়, তারা তখন প্রতিবাদ করতে পারেননি। এই ঘটনার শোকেই জমির মালিক ও তার স্ত্রী একই দিনে মারা যান। আমরা জমি কিনে প্রতারিত হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের জন্য যথাসম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ উলাইল মৌজায় আমাদের ৩৯২ শতাংশ জমি দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে প্রতিপক্ষ লাল মিয়া ও তার শরিকরা জোর করে বংশপরম্পরায় জোরপূর্বকভাবে ভোগদখল করে আসছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের ৩৯২ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দখল হস্তান্তরের সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন, জেলা জজ আদালতের নাজির আব্দুর কাদের মোল্লাসহ থানা-পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।