× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শৈলকুপায় সারের কৃত্রিম সংকট, প্রান্তিক চাষীদের মাঝে অসন্তোষ

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৬ পিএম

পেঁয়াজের দানা থেকে আগাছা পরিষ্কার করছে কৃষকরা, ছবিটি ঝিনাইদহের শৈরকূপার মনোহরপুর মাঠ থেকে তোলা। ছবি : প্রবা ফটো

পেঁয়াজের দানা থেকে আগাছা পরিষ্কার করছে কৃষকরা, ছবিটি ঝিনাইদহের শৈরকূপার মনোহরপুর মাঠ থেকে তোলা। ছবি : প্রবা ফটো

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজ রোপনের জন্য পর্যাপ্ত সারের অভাবের জন্য কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিসিআইসি’র সার ডিলার-কৃষি অফিসের অসৎ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সারের কৃত্তিম সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এদিকে ডিএপি সারের তথ্য ও মজুদ নিয়ে কৃষি অফিস ও ডিলারদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, নভেম্বর মাসের বরাদ্ধকৃত সরকারের ভর্তুকির ১৫শ ৪২ টন ডিএপি সারের মধ্যে ৯শ টন কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে, এখনো ৬শ টন ডিএপি সার মজুদ রয়েছে, ফলে সারের সংকট নেই। অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন গত ৬মাস ধরে সারের সংকট চলছে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্ধ নেই ডিএপি সহ অন্যান্য সারের ।

কৃষকেরা অভিযোগ করছে বিসিআইসি’র  ডিলাররা তাদের পছন্দ আর তদবিরে কৃষকদের সার দিচ্ছে। ফলে প্রান্তিক চাষীরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সার পাচ্ছেন না।এদিকে ইউনিয়নে/ওয়ার্ডে সাব ডিলারদের অভিযোগ সরকারি বরাদ্ধের সার তাদের দিচ্ছে না ডিলাররা। সাব ডিলার জাফর হোসেন বলেন, তারা সারের জন্য ডিলারদের কাছে ধর্ণা দিয়েও সার পাচ্ছেন না, ফলে কৃষকের ভোগান্তি বাড়ছে।  এদিকে সাব ডিলারদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ কৃষকদের । সাব ডিলাররা তাদের সার বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে গোপনে বিক্রি করে দিচ্ছে, ফলে ১হাজার ৫০ টাকা বস্তার ডিএপি কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ২হাজার টাকার বেশি দামে। ফলে সংকট বাড়ার পাশাপাশি প্রান্তিক চাষীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে এখন এই  অঞ্চলের কৃষকেরা মাঠের পর মাঠজুড়ে পেঁয়াজ রোপনে ব্যস্ত সময় পার করলেও চাষীরা সার পাচ্ছে না, বিশেষ করে ডিএপি সার এখন সোনার হরিণ হয়ে গেছে। 

খুলনা বিভাগের মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সবচেয়ে বেশী পেঁয়াজ উৎপাদন করে কৃষকেরা । অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে চাষীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

শৈলকুপার ৯নং মনোহরপুর ইউনিয়নের কৃষকরা বলছেন, তারা চাহিদা অনুযায়ী ডিএপি সার পাচ্ছে না । এভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা তাদের পেঁয়াজ ক্ষেতে সার দিতে পারেননি এখনো । মনোহরপুর গ্রামের কৃষক সিজার মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মনোয়ার হোসেন, শহিদুল মিয়া সহ এক গ্রামেরই অর্ধশতাধিক কৃষক এখনো কোনো সার পাননি ।

কৃষক শাহীন মিয়া জানান, তার ৫বিঘার বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছেন কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় ডিএপি সার দিতে পারেননি।

বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি ও  শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের সার ডিলার নোমান মোল্লা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিলাররা সার পাননি, ফলে এমন সংকট দেখা দিয়েছে।

মনোহরপুর ইউনিয়নের সার ডিলার গোলাম নবী জানান, তার কাছে ৫টনের মতো ডিএপি সার মজুদ আছে, যা বিতরণ চলছে । তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে পেঁয়াজ লাগানোর সময় কৃষকেরা বিঘা প্রতি ২০/২৫ কেজি ডিএপি পাবে কিন্তু বস্তা বস্তা ডিএপি দাবি করে কৃষকেরা। এতে করে সংকট বেড়েছে ।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, তারা প্রায়ই  অসাধু সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করছেন। তিনি আরও বলেন, খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বেশি সার বরাদ্ধ রয়েছে শৈলকুপায়।

প্রসঙ্গত, শৈলকুপায় গত মৌসুমে ১২হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয় এবার প্রায় ১৩হাজার হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষমাত্রা ও সম্ভাবনা রয়েছে ।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শৈলকুপায় ডিলারদের নামে-বেনামে অসংখ্য গোডাউন রয়েছে, যেখানে সার মজুদ করে সংকট বাড়িয়ে তুলছে। তারা ইচ্ছা অনুযায়ী পছন্দসই লোকদের সার দিচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা