আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:০১ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৩ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করল আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা অভিমুখী ট্রেনটি আক্কেলপুর
স্টেশনে বিরতি দিলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। চিলাহাটি ট্রেনের
যাত্রাবিরতি আন্দোলন কমিটির নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই উপলক্ষে ঢাকাগামী যাত্রী
ও লোকো মাস্টারদের ফুলের মালা ও মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেন।
কিন্তু নিমিশেই আনন্দ বিষাদে পরিণত করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ‘একমুখী’
সিদ্ধান্তে। যার কারণে যাত্রাবিরতির এই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। চিলাহাটি এক্সপ্রেস শুধু
ঢাকা অভিমুখী (৮০৬ ডাউন) ট্রেন হিসেবে আক্কেলপুরে থামলেও ফিরতি পথে (আপ) এটি কোনো বিরতি
দেবে না বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই ‘একমুখী’ সিদ্ধান্তে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে
তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, ফিরতি পথে (আপ) চিলাহাটি এক্সপ্রেস
ট্রেনের যাত্রাবিরতি দেওয়া হোক এবং এখানকার এসি আসন কমিয়ে শোভন চেয়ারের আসন সংখ্যা
আরও বাড়ানো হোক।
আক্কেলপুর রেলস্টেশনের তথ্যমতে, এই স্টেশনে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস,
নীলসাগর এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস- এই তিনটি ট্রেন আপ-ডাউন দুই পথেই যাত্রাবিরতি
দেয়। চিলাহাটি এক্সপ্রেসের উভয় দিকের যাত্রাবিরতির দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন চলছিল।
আন্দোলনের কারণে গত ৩০ অক্টোবর রেলপথ মন্ত্রণালয় এখানে যাত্রাবিরতির অনুমতি দেয়। পরবর্তী
সময়ে ১৭ নভেম্বর রাজশাহীর সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল আওয়ালের
স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় ১ ডিসেম্বর থেকে শুধু ঢাকাগামী পথে যাত্রাবিরতির অনুমতি দেওয়া
হয়। তিন মাসের জন্য পরীক্ষামূলক যাত্রাবিরতির এই ট্রেনটিতে ১১টি শোভন চেয়ার ও ১০টি
এসি সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে লোকো মাস্টারদের সঙ্গে ফটোস্যুট
করেন নেতারা। এরপর চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের আক্কেলপুর থেকে যাত্রা করা ১১ জন যাত্রীকে
রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন যাত্রা বিরতি
আন্দোলন কমিটির নেতারা। পরে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়।
ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীতকালে ১০টি এসি সিট বরাদ্দ
অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সিদ্ধান্তে অস্বচ্ছতা রয়েছে। আসনবিন্যাসেও
যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করা হয়নি। এসি আসন কমিয়ে শোভন চেয়ার আসন আরও বরাদ্দ দেওয়ার
দাবি জানানো হয়।
চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী লাভলী খাতুন বলেন, আমি চাকরির
সুবাদে গাজীপুরে থাকি। দীর্ঘদিন ধরে আক্কেলপুর রেলস্টেশন দিয়ে একতা, দ্রুতযান ও নীলসাগর
ট্রেনে যাতায়াত করি। চিলাহাটি ট্রেনের সুবিধা হচ্ছে, আমি দিনের বেলায় ৩টার মধ্যে ঢাকায়
পৌঁছাতে পারব। অন্য ট্রেনগুলো রাতে ও ভোরে ঢাকায় পৌঁছায়। ফিরতি পথে এখানে যাত্রা বিরতির
দাবি জানাচ্ছি।
যাত্রী শাহিনুর রহমান হামিদ বলেন, আমার বাসা আক্কেলপুরে। ঢাকা থেকে
ফেরার পথে ট্রেনটি না থামায় আমাকে জয়পুরহাটে নেমে বাড়ি ফিরতে হয়। এটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
ফিরতি পথেও যাত্রাবিরতি দিতে হবে।
চিলাহাটি এক্সপ্রেস যাত্রাবিরতি আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুর রউফ মাজেদ
বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলনের পর রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলেও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কেবল
একমুখী বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি অযৌক্তিক। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার
পাশাপাশি শোভন চেয়ারের আসন ১১টি থেকে ২৫টিতে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আজই বিপুলসংখ্যক
মানুষের স্বাক্ষরসহ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের কাছে একটি আবেদন জমা দেওয়া
হয়েছে।
আক্কেলপুর স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান বলেন, ১ ডিসেম্বর থেকে কেবল
ঢাকাগামী পথেই ট্রেনটি যাত্রাবিরতি শুরু করেছে। তবে ফিরতি পথে বিরতি নেই। জানতে চাইলে
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, চিলাহাটি
এক্সপ্রেসের শুধু একমুখী যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়েছে। আপ ট্রেনে যাত্রাবিরতির সুযোগ নেই।
এতে যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি হবে না।