লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৩০ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২২ পিএম
লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) দুই শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত, হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দিলারা আক্তার দুলি ও হাসিনা খাতুন পৃথক লিখিত অভিযোগে একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন।
প্রথম অভিযোগে দিলারা আক্তার দুলি জানান, অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এমপিএস ট্রেডের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক মাস নিয়মিত ক্লাস করার পর ট্রেড ইনচার্জ শিক্ষক জায়দুল হক হঠাৎ তাকে বাদ দিয়ে দেন। বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি দুলিকে আলাদাভাবে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ট্রেড থেকে বাতিল করে অন্যজনকে ভর্তি করে নেন। তিনি আশঙ্কা করেন, এ ধরনের প্রস্তাব চলতে থাকলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
দ্বিতীয় অভিযোগে হাসিনা খাতুন উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর অ্যাসেট প্রকল্পের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর ফলাফল দেখার উদ্দেশ্যে গত ২৯ অক্টোবর টিটিসি ক্যাম্পাসে গেলে সিনিয়র শিক্ষক জায়দুল হক তাকে ডেকে নেন। পরে তিনি জানান, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলেও শারীরিক সম্পর্কে রাজি হলে ভর্তি করে দেওয়া হবে। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ভবিষ্যতে টিটিসিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
দুই শিক্ষার্থীই লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিক ছাত্রী এ ধরনের প্রস্তাব বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থী ও অভিযুক্ত শিক্ষককের একটি অডিও ভাইরাল হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক জায়দুল হক বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অডিও রেকর্ডটি বানোয়াট, মিথ্যা। এটি আমার না।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আইনুল হক বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।