টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৪ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৫ পিএম
লবণের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মাঠপর্যায়ে উৎপাদিত স্থানীয় প্রান্তিক লবণ চাষিরা আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।এ নিয়ে গুরুতর সংকট তৈরি হয়েছে উপকূলীয় টেকনাফে। লবণের দাম উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেকেরও কম হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন চাষিরা।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) এ অবস্থার প্রতিবাদে বিকাল ৩টায় টেকনাফ উপজেলা মিলনায়তনের
সামনে মানববন্ধন করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লবণ উৎপাদনকারী সংগঠনের
নেতা শফিক মিয়া জানান, বর্তমানে মাঠে মণপ্রতি লবণ বিক্রি হচ্ছে ১২০–১৪০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচই পড়ছে ৩০০–৩৫০
টাকা। এতে চাষিরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। তার ভাষায়, ‘প্রতি কেজি লবণের দাম
পাচ্ছি মাত্র ৩ থেকে ৩.৫০ টাকা। অথচ বাজারে
সেই লবণ পরিশোধনের পর বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। মিল মালিকদের সিন্ডিকেটে চাষিরা বঞ্চিত
হচ্ছেন।’
চাষিদের অভিযোগ, দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’
নামে অতিরিক্ত শিল্প লবণ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে- যা দেশীয় শিল্পের প্রতি অবিচার।
এ সময় বক্তারা অপ্রয়োজনীয় শিল্প লবণ আমদানি বন্ধ, মাঠপর্যায়ে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য
নির্ধারণ এবং মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানান। তাদের হুঁশিয়ারি-দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
টেকনাফের চাষি রশিদ আহমদ বলেন, ‘এ এলাকার বেশির ভাগ পরিবারই লবণ চাষের ওপর নির্ভরশীল।
পাঁচ টাকা দরে লবণ বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই ওঠে না। এভাবে চললে চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য
হব।’
শাহ পরীরদ্বীপের লবণচাষি রেজাউল করিম বলেন, ‘১০ কানি জমিতে লবণ চাষ করতে গিয়ে
সারাদিন রোদে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করি। উৎপাদন হচ্ছে ভালোই, কিন্তু দাম যে পাওয়া উচিত
তা আমরা পাচ্ছি না- আগামী দিনে পাবো কি না, সেটিও অনিশ্চিত।’
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে লবণ উৎপাদন কেন্দ্র মূলত কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।
এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ লবণই আসে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া,
ঈদগাঁও, সদর ও চকরিয়া অঞ্চল থেকে। বাকি ৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে।
গত মৌসুমে অনুকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে লবণের চাহিদা মিটে গেছে এবং
এখনো মজুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমেও উৎপাদন ভালো থাকলেও
মাঠপর্যায়ে দাম কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। স্থানীয়ভাবে এখন প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে
২০০–২২০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচই ৩০০–৩৫০ টাকা।
বিসিকের হিসাবে গত মৌসুমে ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়ে আসছে ২৫ লাখ
২৮ হাজার মেট্রিক টন- যা ৬৩ বছরে সর্বোচ্চ। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা
হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন।
মানববন্ধনে রশিদ আহমেদ, লবণ ব্যবসায়ী নরুল আমিন চৌধুরী, বেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন
এলাকার চাষি ও ব্যবসায়ীরা বক্তব্য রাখেন।