নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৬ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৯ পিএম
‘আমার ময়না আর নেই। ডাক্তার আমার ময়নাকে খুন করেছে। ভুল চিকিৎসা আমার ময়নাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে। সে আর কোনোদিন আমার সঙ্গে কথা বলবে না, হাসবে না। দুই বছরের নাতি মায়ের জন্য কাঁদে, কিন্তু তার মা আর ফিরে আসবে না। আমরা এটা সহ্য করতে পারছি না।’
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে মেয়ে রিংকিকে হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের শাহিন আক্তার।
নিহত রিংকি আক্তার (২২) আব্দুল আজিজ বাবুলের মেয়ে। তার স্বামী নূর হোসেন ইতালিপ্রবাসী। এই দম্পতির দুই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে রিংকি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নোয়াখালীর হাউজিং এলাকার ডা. মো. মুজিবুল হকের চেম্বারে নেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক জানান, তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যরা ২৫ নভেম্বর অস্ত্রোপচারের অনুমতি দিলে সেদিনই অপারেশন করা হয়। এরপর রোগীকে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পর রিংকির তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি এটিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে উল্লেখ করেন এবং গুরুত্ব দেননি।
রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হলে গতকাল সকাল ৯টার দিকে তাকে আবারও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, সকাল ১০টার কিছু পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিংকির মৃত্যু হয়। নিহতের মা শাহিন আক্তার বলেন, ‘আমি মনে করি চিকিৎসকের অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়ে মারা গেছে। সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো আমার ময়না আজ বেঁচে থাকত।’
নিহতের ভাই আলাউদ্দিন শাকিল জানান, মৃত্যুর বিষয় জানাতে গেলে ডাক্তার ও তার সহযোগীরা আমাদের লাঞ্ছিত করে বের করে দেন। এরপর আমরা সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ করেছি।
স্থানীয়রা জানান, ডা. মুজিবুল হক বাড়িতেই রোগী দেখা ও বিভিন্ন অপারেশন করতেন। এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। রিংকির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও ডা. মুজিবুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীর ভাই অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।