শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৯ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুধের বাজারে একটি শক্তিশালী ঘোষ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ কারণে দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা সঠিক দাম পাচ্ছেন না।
পাশের উপজেলাগুলোয় যেখানে প্রতি লিটার দুধের দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে শেরপুরে প্রতিদিন দুধের দাম ওঠানামা করছে মাত্র ৩৭ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। এতে করে ছোট ও মাঝারি খামারিরা লোকসানে পড়েছেন।
খামারিরা দুধের বাজারে সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার দপ্তর কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খামার শিল্পে বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা খামারিদের।
খামারিরা অভিযোগ করে বলেন, দুধ সংগ্রহ ও বাজারজাতে স্থানীয় ঘোষদের একটি সিন্ডিকেট সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের নির্ধারিত দামের বাইরে কেউ দুধ বিক্রি করতে পারছেন না।
এ কারণে উৎপাদন খরচের তুলনায় দুধের দাম অনেক কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের।
গাভি লালন-পালনের খরচ দিন দিন বাড়ছে। অথচ দুধের দাম বাড়ছে না। ঘোষরা যা দাম দেয়, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। খামারিরা বলেন, আমাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। খাবারের দাম বেশি। ওষুধ আর চিকিৎসা খরচও কম নয়। এই অবস্থায় দুধের ন্যায্য দাম না পেলে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাবে।
খামারিদের মতে, বর্তমানে গো-খাদ্য ভুসির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা হলেও দুধের দাম মিলছে সর্বনিম্নে ৩৭ টাকা। এতে গাভির খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিয়ায কাজমীর বলেন, খামারিরা যেন ক্ষতির মুখে না পড়ে সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। কারণ খামারিরা দেশের প্রাণ। দুধের বাজারে ঘোষরা যদি সিন্ডিকেট করে খামারিদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে তাহলে দায়িত্বশীলদের উচিত হবে বাজারে কঠোর নজরদারি বাড়ানো।