নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৩ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ করেই ডায়রিয়া প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষ শহরের জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) ভর্তি হচ্ছেন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশু সংখ্যা বেশি।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬১৭ জন ডায়রিয়া রোগী নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। খাবার পানি ও খোলা খাবারজনিত দূষণ ও ডেঙ্গুর কারণে ডায়রিয়া বেড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছেন।
হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স
আয়েশা আক্তার জানান, প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ২০০ রোগী আসছে। হাসপাতালের
১৫টি বেডে অনেক কষ্টে রোগী সামলাতে হচ্ছে। এক দেড়ঘণ্টায় ডিহাইড্রেশন কন্ট্রোলে এনে
রোগীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে- তাদের বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে। আমাদের এখানে স্যালাইনের
অভাব নেই।
বন্দরের কাবিলের মোড়ের বাসিন্দা আমুয়েল হোসেন ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে আছেন। তার সহপাঠী বন্ধুরা জানালে বাইরের পরোটা-ভাজি খেয়ে আমুয়েল অসুস্থ্ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ আমুয়েল বললেন, তিনি আর বাইরের কোনো খাবার খাবেন না।
শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিমু আক্তার জানালেন, তার দেড়মাস বয়েসি মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে। বুকের দুধের সমস্যা থেকে এই রোগ। শিশুটি তিনদিন ধরে হাসপাতালে আছে। ক্যানোলা লাগানো হাতে স্যালাইন চলছিল।
মুন্সীগঞ্জ জেলার দেওভোগ এলাকা থেকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে
এসেছেন একজন মাঝ বয়েসি ডায়রিয়া রোগী। ঢাকার মহাখালী জাতীয় উদরাময় হাসপাতাল থেকে তাকে
বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের লোকজন তাকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে এসেছেন।
এখানে ডাক্তার জানালেন রোগীর ডায়রিয়া ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু অন্যান্য সমস্যা রয়েছে।
সেগুলো ডায়রিয়া বিভাগে চিকিৎসা হয় না।
গত দুই সপ্তাহ ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর, কাশীপুর, বন্দর,
ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও আশপাশ এলাকায় শিশু ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল
অফিসার বলেন, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে বলা ঠিক হবে না। ডেঙ্গুরোগের
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও ডায়রিয়া রোগী বাড়ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।