মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৪ পিএম
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সচিবের নামে ডিও থাকলেও চাল বিতরণের দায়িত্ব পান কৃষক দল ও জামায়াতের নেতারা। এ ব্যবস্থাপনার ফাঁকে হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ থেকে ২৮ বস্তা চাল রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার ৭ নম্বর লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জেসমিন আরা জুঁথী।
জানা যায়, ডিলার না থাকায় উপজেলার ৭ নম্বর লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের জন্য ডিও হয় ইউপি সচিবের নামে। কিন্তু গত ১৪, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৫ টাকা কেজির চাল বিতরণ করেন উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ও জামায়াত নেতা সামসুল আলম। পরে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, ২৮ বস্তা চালের কোনো হদিস নেই।
স্থানীয় কার্ডধারী ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও তারা চাল পাননি। সুযোগ বুঝে কৃষক দল নেতা আমিনুল ইসলাম এবং জামায়াত নেতা সামসুল আলম হতদরিদ্র মানুষের প্রাপ্য আত্মসাত করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরের বার চাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া কয়েকজনকে চালের বিনিময়ে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছেন তারা।
লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব জেসমিন আরা জুঁথী বলেন, আমরা শুধু কাগজে-কলমে, চাল বিতরণের সঙ্গে যারা জড়িত তারা বিএনপি-জামায়াতের নেতা। তাদের মধ্যে দুজনকে চিনি একজন বিএনপির আমিনুল ইসলাম আর জামায়াতের সামসুল আলম। বিষয়টি নিয়ে ১৯ নভেম্বর বিএনপি-জামায়াত নেতা, প্রশাসক স্যারসহ আমরা সবাই বসেছিলাম। যে চাল চাইবে তাকে চাল দেওয়া হবে, আর যে চাল পাবে না তাকে টাকা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, চাল ডিলারের মাধ্যমে বিতরণ হওয়ার কথা, কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমাদের ডিলার নাই। ডিলার না থাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতারা চাল বিতরণের দায়িত্ব নেয়, এ দায় মূলত নেতাদের।
উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে, হিসাবে গরমিল ছিল সংশোধন হয়েছে। সবাইকে চাল দেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে লেখালেখি না করাই ভালো।
এ বিষয়ে কথা বলতে জামায়াত ইসলামীর ইউনিয়ন সহ-সভাপতি সামসুল হককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে দলটির ইউনিয়ন আমির শফিউল আলম বলেন, আমি এ ঘটনা সম্পর্কে জানি না, আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। খোঁজ নিয়ে জানতে হবে আসলে কী ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্রশাসক আব্দুল হামিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কাগজে-কলমে চালের ঘাটতি হলেও যারা চাল পায়নি তাদের সবাইকে চাল বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের কাছে যারা আসবে তাদের সবাইকেই আমরা বলে দিচ্ছি, যারা চাল পায়নি আপনাদের চাল বুঝিয়ে দেব। সমস্যা হচ্ছে- উপকারভোগী কেউ আমাদের কাছে আসে না।
সচিবের নামে চাল বরাদ্দের ডিও থাকলেও বিএনপি-জামায়াত নেতারা চাল বিতরণ করছে জানতে চাইলে আব্দুল হামিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ডিলার নিয়োগ বন্ধ থাকায় উপজেলা কমিটি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বসে এই সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে মূলত ৫ লাখ টাকার একটি বিষয় জড়িত ছিল। এই সিদ্ধান্তের অধীনে রাজনৈতিক নেতারাই টাকাটা দিয়ে চালটা উত্তোলন করেন। যদিও ডিও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার নামেই করা হয়। সাধারণত উনাদের সমন্বয়ে এখানে বিতরণটা হয়।