শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৭ পিএম
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্যখাতসহ শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। চিকিৎসা সেবাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে এবং একটি রোগীও যেন বিনামূল্যে চিকিৎসা না পেয়ে মারা না যায়—সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ও ড্যাবের সহযোগিতায় আয়োজিত দরিদ্র-অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, দেশে ৩৬টি মেডিকেল কলেজ থাকলেও দলীয়করণের কারণে সেখানে মানসম্পন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিএনপি সরকারে এলে শেরপুরে একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থ না থাকলেও যাতে সবাই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক শেরপুর-১ (সদর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, শেরপুরের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আমরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জেলার স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মেডিকেল ক্যাম্পে সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. হযরত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ, ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক ডা. খালেকুজ্জামান দিপু, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সায়েম মনোয়ার, শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলামসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. আব্দুল্লাহ ওয়াসী খান জনি জানান, মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। পরে তাদের মাঝে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিনব্যাপী চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং যাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন তাদের জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।