খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
পাহাড়ে শীত এখনও পুরোপুরি নামেনি। তবে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে শীতের কাঁপুনি। আর তার সঙ্গেই বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। এতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় জর্জরিত শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা ছুটে আসছেন হাসপাতালে। খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসেই ঠান্ডাজনিত রোগে ১০ শিশু মারা গেছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে বেডের চেয়ে রোগী কয়েক গুণ বেশি। নার্সদের ছোটাছুটি, অভিভাবকদের চিন্তিত মুখ আর কাঁদতে থাকা অসুস্থ শিশুদের আর্তনাদ করতে দেখা যায়।
রোগীর অভিভাবক নাজমুন নাহার বলেন, কয়েক দিন ধরে আমার ছেলের সর্দি, কাশি আর জ্বর। কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে আছি। এখানে স্বাস্থ্যসেবার মান ভালো। দুই-একদিনেই বাসায় ফিরতে পারব বলে আশা করছি।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ প্রিয়াংকা রাণী ভৌমিক বলেন, প্রতিদিনই শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। অনেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। বেডের বাইরে বারান্দায় ও পুরুষ ওয়ার্ডেও শিশুদের রাখতে হচ্ছে। ১৫ বেডের জায়গায় এখন ৬০-৭০ জন শিশু ভর্তি আছে। মাত্র দুজন ডাক্তার দিয়ে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে ভর্তি শিশু রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডা. ওমর ফারুক বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ শিশু ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে আসছে। আর ভর্তি হচ্ছে ৭০-৮০ শিশুর মতো। চিকিৎসক সংকট ভয়াবহ। সিনিয়র কনসালট্যান্টের পদ শূন্য থাকায় আমরা অন্য হাসপাতাল থেকে এসে সেবা দিচ্ছি। দ্রুত ডাক্তার নিয়োগ দরকার।
ডাক্তাররা বলছেন, দিনরাতের তাপমাত্রার তারতম্য, দিনে গরম, রাতে হালকা ঠান্ডা। এই পরিবর্তনেই শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত কমছে।
ডাক্তারদের পরামর্শ, শিশুকে অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পরিবেশে না রাখা। বিশুদ্ধ পানি ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা। ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা। শিশুর সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ডাক্তার ওমর ফারুক বলেন, ঠান্ডা ও গরমের এই রদবদলে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে। সময়মতো যত্ন আর সচেতনতা বাড়ালে এই ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।