রংপুর অফিস, পীরগঞ্জ ও বেরোবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৫৬ পিএম
রায় ঘোষণার পর নগরীর শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে আনন্দ মিছিল করে সহপাঠীসহ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির রায়ের পর রংপুরে আনন্দ মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মিষ্টি বিতরণ করেছে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার, সহপাঠী ও সমর্থকরা। ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে রায় ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমে তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। তাই আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। আজকে এ রায়ে আমরা অনেক খুশি।

তার বাবা মকবুল হোসেন বলেন, শেখ হাসিনাকে ফাঁসির রায় দেওয়ায় কিছুটা হলেও আমার অন্তরের কষ্ট প্রশমিত হলো। হাসিনাকে ভারত থেকে এনে দ্রুত বাংলার মাটিতে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হোক। জীবদ্দশায় আমার ছেলের খুনীর ফাঁসি যেন দেখে যেতে পারি।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ফ্যাসিস্ট কায়দায় খুন, গুম ও হত্যা করে এই দেশকে একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে দখল করে রেখেছিল শেখ হাসিনা। ফাঁসির রায় কার্যকর হলে সেটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং এরপর থেকে কোন দল বা ব্যক্তি অগণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পারবে না। আমরা চাই জুলাই আন্দোলনে শহীদ, মূখ্য ভূমিকা পালন করা যোদ্ধাদের পরিবারের নিরাপত্তা যেন এই রাষ্ট্র নিশ্চিত করে।
বেরোবিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ
শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা ক্যাম্পাস থেকে একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ গণঅভ্যূত্থানের পর আরেকটি বিজয় বলে তারা আখ্যায়িত করেন এবং একে-অপরের সাথে কোলাকুলি করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
মিষ্টি বিতরণকালে শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, বেরোবি’র গর্ব শহীদ আবু সাঈদ ভাইয়ের আত্মত্যাগের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলন অন্যরকম রূপ নেয়। যে ফ্যাসিস্টের নির্দেশনায় প্রাণ হারায় আবু সাঈদ ভাই। সেই ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় আমরা শিক্ষার্থীরা অনেক খুশি। এ রায় একটি নতুন ইতিহাস রচনা করল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, আন্দোলনে অনেকেই শহীদ হয়েছেন তার মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ অন্যতম। আবু সাঈদকে কেন্দ্র করে এ মামলার যে রায় হয়েছে এতে শুধু সাধারণ শিক্ষার্থীরা নয় দেশের আপামর জনতা খুশি। আবু সাঈদ হত্যা মামলা ট্রাইব্যুনাল-২ এ আছে সেটারও আমরা খুব দ্রুত রায় পাবো। আবু সাঈদের রক্তের কাছে আমরা ঋনী হয়ে থাকবো চিরকাল। আগামীতে যারাই ক্ষমতায় আসবেন তারা এ দৃষ্টান্ত মনে রেখে কাজ করবেন।

রায় ঘোষণার পর রংপুর নগরীতে মিষ্টি বিতরণ করেন জুলাইযোদ্ধারা। প্রবা ফটো
এদিকে, রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে অটোচালক ও পথচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন জুলাই যোদ্ধা সীমান্ত হোসেন। তিনি বলেন, “এ রায়ের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পেয়েছে। দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক। বিকালে টাউন হল থেকে জাতীয় ছাত্র শক্তি মহানগর কমিটির উদ্যোগে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।