চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৫ পিএম
আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৬ পিএম
ভারত পানি বন্ধ করে দেবে, সীমান্তে মানুষ হত্যা করবে, চাল ও পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেবে, আমরা আর এই বড় দাদাগিরি দেখতে চাই না বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই- ভারত আমাদের সঙ্গে সমমর্যদা দিয়ে সমান অধিকার দিয়েছে। অন্যথায় ভারত কখনও বাংলাদেশকে বন্ধু হিসেবে পাবে না।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে পদ্মা বাঁচাও গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
ফারাক্কা বাঁধ নিয়ে তিনি বলেন, ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে পদ্মা নদীতে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে ফারাক্কা বাঁধ চুপিচুপি নির্মাণ করেছে ভারত। তারপর বাংলাদেশ ভাগ হলে তখন সেটাকে চালু করা হয়। আর ফারাক্কা বাঁধ চালু করার অনুমতি দিয়েছিলেন শেখ মজিবুর রহমান। এরপর পদ্মা নদীতে পানি কমে যায়। বেড়ে যায় মানুষের দুর্ভোগ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ ভাসানী ফারাক্কা বাঁধের বিরোধিতা করে লংমার্চ করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে পদ্মা-ফারাক্কা নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। এরপর আর কেউ এই সঙ্কট মোকাবিলায় চেষ্টা করেনি, একমাত্র খালেদা জিয়া ছাড়া। তিনি পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলেছিলেন।
মির্জা ফখরুল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ২০২৬ সালে পদ্মা-ফারাক্কার চুক্তি শেষ হবে। আমরা জানি না, এবার ভারত কোন পদক্ষেপ নেবে। আগামী নির্বাচনে যে সরকার আসবে, আর সেই সরকার যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে আমরা এই পদ্মার পানিতে আরও ডুববো।
গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, পদ্মা নদীতে ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা এর বিকল্প হিসেবে গঙ্গা ব্যারেজ তৈরি করতে চাই। সেখানে আমরা পদ্মার পানি আটকে রেখে শুষ্ক মৌসুমে ওই পানি আমাদের নদীগুলোতে ছেড়ে দিতে পারব। আর বন্যার সময়ে পানি আটকে রাখতে পারব। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় দুর্ভোগ কমে যাবে।
জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রিয়। ধর্মকে ভালোবাসে। আল্লাহর নবীকে ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। কিন্তু তারা ধর্মান্ধ নয়, সাম্প্রদায়িক নয়। গত নির্বাচনের হিসাব করে দেখেন, কত পার্সেন্ট ভোট পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাঁচ-ছয় পার্সেন্ট। রাতারাতি লাফ দিয়ে ৫১ পার্সেন্ট হয়ে যাবেন- এটা মনে কইরেন না। বাংলাদেশের মানুষ সহজে আপনাদের ভোট দেবে না। কারণ আপনাদের তারা বিশ্বাস করে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা যুদ্ধ করলাম, আপনারা শুধু এটার বিরোধিতাই করেন নাই, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণহত্যা করেছেন। এ কথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা হয় না। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। আজকে উল্টা-পাল্টা, আবোল-তাবোল, সোশ্যাল মিডিয়াতে কথা বলে আমাদের মাথা নামাতে পারবেন না।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক শাজাহান মিঞা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।