× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জুড়ীতে বিষধান খেয়ে ৩৩৫ হাঁসের মৃত্যু: নিঃস্ব খামারি চেরাগ আলী

খোর্শেদ আলম, জুড়ী (মৌলভীবাজার)

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ০০:০৮ এএম

নিজের পালন করা হাসগুলো হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব চেরাগ আলী। প্রবা ফটো

নিজের পালন করা হাসগুলো হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব চেরাগ আলী। প্রবা ফটো

চেরাগ আলী। বয়স ৬৫ বছর। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি হাঁস পালন করছেন। তাঁর খামারে দেশি প্রজাতির প্রায় ৫০০ হাঁস ছিল। এর মধ্যে কিছু নিয়মিত ডিম দিত এবং কিছু অচিরেই ডিম পাড়া শুরু করার কথা ছিল।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে তিনি হাঁসগুলোকে গ্রামের পাশের জলাবদ্ধ জায়গায় ছেড়ে রেখে বোরো ধানের বীজতলার কাজে দূরে যান। কিন্তু তখনও জানতেন না কী অপেক্ষা করছে তার জন্য। বিকেলে ফিরে এসে দেখেন পানিতে ভাসছে অসংখ্য হাঁসের মৃতদেহ। একটিÑদুটি নয়, চোখের সামনে নিজের পালন করা ৩৩৫ টি হাসের মৃতদেহ ভাসতে দেখেন তিনি।

এমন ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে খামারি চেরাগ আলীর হাঁসের খামারে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। নিঃস্ব হয়ে পড়া খামারি চেরাগ আলী চোখের পানি সামলাতে সামলাতে বলেন, ‘এই হাঁসগুলাই ছিল আমার সম্বল। এত আদর যত্নে বড় করছি। বিষ খাইয়া হাঁসগুলা মরায় আমার সবশেষ হইয়া গেল…। এমন আকুতি করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি।

এলাকাটি ‘গোবিন্দপুরের জাওর’ নামে পরিচিত। শুষ্ক মৌসুমে এখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর স্থানীয় মফিজ আলীসহ কয়েকজন এই জলাশয় ইজারা নিয়েছেন।

চেরাগ আলী জানান, জমির ধারে ছড়ানো ধানের দানা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়—হাঁসগুলো বিষমেশানো ধান খেয়েই মারা গেছে। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেদিন সব হাঁস তুলতে পারেননি। বাড়িতে আনার পর আরও কয়েকটি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি তেঁতুলের রস খাইয়ে সেগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

চেরাগ আলীর হিসাব অনুযায়ী, তাঁর ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনায় তিনি জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

প্রতিবেশী ফয়জুর রহমান, আবদুস সামাদসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শীতের শুরুতে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি এলেও গোবিন্দপুর জাওরে সাধারণত পাখি দেখা যায় না। তাঁদের ধারণা—পাখি নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই হাঁস নিধনের উদ্দেশ্যে বিষ ছড়ানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে, ইজারাদার মফিজ আলী দাবি করেন—তাঁরা কয়েকদিন ধরে অন্য বিলে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা