চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৬ পিএম
দেশের ক্ষতি করে বন্দরের কোনো টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এপিএম টার্মিনাল নিয়ে গতকাল (রবিবার) আমাদের সঙ্গে বৈঠক ছিল। কিন্তু তাদের দাবিগুলো আমরা মানতে পারিনি বলে তারা চলে গেছে। আমি বলেছি, তারা চলে গেলে চলে যাক। আমি বন্দরের আয়ের ক্ষতি করে এপিএম টার্মিনাল কেন, কোনো টার্মিনাল দিতে পারব না।
সোমবার (১০ নভেম্বর) নগরীর পতেঙ্গায় লায়লদিয়ার চর কন্টেইনার ইয়ার্ড উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জমান উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্দর নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। সমস্যা হচ্ছে আমরা অনেক দূরে দেখতে পাই না। যারা এসব কথা বলছেন তাদের বোঝা উচিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যদি আপনাকে যেতে হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু আমরা এর ধারেকাছেও নেই। তবে আমরা এখন সেদিকে যাচ্ছি।
আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছেÑ এমন প্রশ্নের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই অভিযোগ ঠিক না। যদি আমরা ডিউ প্রসেস অনুসরণ না করতাম তাহলে আরও আগেই দিয়ে দিতে পারতাম। আগের অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই দিয়ে দিতে পারতাম। আপনারা সব জানতে পারবেন। চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি, তাই এখন সবকিছু বলতে পারছি না। নৌ-উপদেষ্টা বলেন, তথ্য গোপন করে আমাদের কী লাভ। তারা আমার চাচা, না মামা, নাকি আমার সেখানে বাড়িঘর আছে। আমার ঘরবাড়ি এই দেশে, আত্মীয়স্বজন এই দেশে। আমি মারা যাব এই দেশে।
তিনি বলেন, এখন ই-গেট সিসটেম চালুর কারণে প্রতিটি ট্রাক তিন মিনিটে গেটপাস ক্লিয়ার করে চলে যেতে পারছে। এটি বড় ধরনের সাফল্য। আগে গেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাকগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। এ ধরনের উন্নতি করতে গেলে প্রযুক্তি ও টাকা-পয়সার প্রয়োজন আছে। সবচেয়ে বড় কথা প্রযুক্তি আনার জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন। বাংলাদেশে বড় বড় সেক্টরে বিনিয়োগ কম হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে যে সম্প্রসারণ হচ্ছে, এখানে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত বলেন, আমি সিঙ্গাপুর থেকে শুরু করে নেদারল্যান্ডসÑ দেখেছি বেশিরভাগ বন্দর অপারেটর পরিচালনা করছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশও অপারেটর নিয়োগ দিয়ে পাঁচগুণ আয় করছে। তাহলে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব। কেন স্লোগান দেওয়া হচ্ছে বুঝে আসছে না। তিনি বলেন, যদি এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, তাহলে বন্দরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যদি আমাদের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ফুলফিল হয়। আমাদের প্রযুক্তি নেই। আমরা কি প্রযুক্তি ঘর থেকে এনে দেব।
উপদেষ্টা বলেন, ট্যারিফ নিয়ে আমি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলাম। আদালত এক মাসের স্থগিতাদেশ দিয়েছে। লায়লদিয়ার চর কন্টেইনার ইয়ার্ড উদ্বোধন শেষে উপদেষ্টা বেটার্মিনাল এলাকার পরিবহন টার্মিনাল, তালতলা কন্টেইনার ইয়ার্ড, এক্সওয়াই শেড পরিদর্শন এবং কাস্টমস অকশন শেড পরিদর্শন করেন।