চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২০:২৯ পিএম
চট্টগ্রামের রাউজানে পুকুর সেচে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট বাজারসংলগ্ন আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে একটি চায়নিজ রাইফেল, একটি শটগান ও সাতটি গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র-গুলি গত বছরের ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
এ প্রসঙ্গে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পুকুর সেচে যে দুটি অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করা গেছে, সেগুলো গতবছর রাউজান থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার করা এসব অস্ত্র-গুলি প্লাস্টিকের প্যাকেটে আটকে পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী আবদুল হাকিম হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক মো. সাকিব (২০) ও মো. শাহেদ (২৫) এর দেওয়া তথ্যে এসব অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে একইদিন ভোরেই চারটি বিদেশি পিস্তল ও ১টি রিভলবার, ৪২টি রাইফেলের গুলি, ১৯টি পিস্তলের গুলি, ১৬টি শটগানের কার্তুজ, সাতটি খালি ম্যাগাজিন, ১টি রকেট ফ্লেয়ার, ২টি রামদা, ৫০টি ইয়াবা ও ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া নগদ ৯৬ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
এদিকে, রাউজানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এসময় তিনি বলেন, রাউজানের আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় এই পর্যন্ত মোট ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ঘটনার পরিকল্পনাকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সন্ত্রাসী আর একসঙ্গে থাকতে পারে না জানিয়ে এসপি সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, হয় পুলিশ থাকবে, না হয় সন্ত্রাসী থাকবে। রাউজানে মোট ছয়টি দল সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মাত্র ২০০ মিটার দূরে বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে একদল অস্ত্রধারী। তিনি রাউজানে নিজের খামার থেকে প্রাইভেট কারে করে চট্টগ্রাম নগরে ফিরছিলেন। এই আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় সাকিব ও শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মোটরসাইকেলে আসা ওই অস্ত্রধারীদের গুলিতে আবদুল হাকিমের গাড়ি চালক মুহাম্মদ ইসমাইলও (৩৮) আহত হন। হাকিমের শরীরে পুলিশ ১০টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পায়। এছাড়া গাড়িতে ২২টি গুলির চিহ্ন শনাক্ত করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর আবদুল হাকিমের স্ত্রী তাসফিয়া আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন।
গত সপ্তাহে এই চাঞ্চল্যকর খুনের মামলায় পুলিশ আবদুল্লাহ খোকন, মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, মুহাম্মদ মারুফ ও মুহাম্মদ সাকলাইন নামে চারজনকে গ্রেপ্তারর করে। সেই সময় একটি একনলা বন্দুক ও একটি এলজিও উদ্ধার করা হয়। এসব আসামির তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার সাকিব ও শাহেদকে গ্রেপ্তারর করে পুলিশ। পরে সাকিব ও শাহেদের তথ্যেই রাউজানে পুকুর সেচে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।