আঞ্চলিক প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৫৯ পিএম
গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়ের প্রথম আশ্রয়স্থল ও ভরসার জায়গা হলো গ্রাম আদালত, এমন মন্তব্য করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
তিনি বলেন, আমরা যদি এই আদালতকে কার্যকর করতে না পারি, তাহলে গ্রামীণ বিচারপ্রার্থী জনগণ ভোগান্তির শিকার হবেন। একই সঙ্গে ছোটখাটো বিরোধের নিষ্পত্তির জন্যও তাদের জেলা আদালত পর্যন্ত দৌড়াতে হবে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মূল্যবান সময় ও অর্থ নষ্ট হয়, তেমনি আদালতের ওপর মামলার বোঝা বৃদ্ধি পাবে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পর্যায়ে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের যৌথ আয়োজনে সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, গ্রাম আদালতের কাজ শুধু বিচার করা নয়, এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখা। দ্রুত এবং সহজে আইনি সেবা পৌঁছে দিয়ে আমরা সমাজে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারি। গ্রাম আদালত যদি সক্রিয় থাকে, তাহলে অনেক পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ স্থানীয়ভাবেই মিটে যায়। যা গ্রামীণ জীবনকে আরও সহনশীল ও সুন্দর করে তোলে। এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মতিউর রহমান খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাপস শীল, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর, শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত শাহা, সহকারী কমিশনার ফারজানা হোসেনসহ গ্রাম আদালত প্রকল্পের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জেলায় মোট মামলা হয়েছে ১৮৮৪টি। এর মধ্যে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে দায়ের হয়েছে ১৭১৫টি। জেলা আদালত থেকে প্রেরিত ২৩৫টি মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির করা হয়।