রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৪১ পিএম
রংপুর নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। স্বজনরা রোগীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিকিৎসকের অবহেলা এবং মৃত্যুর পর তা গোপন রাখার অভিযোগ তুলেছেন। অপরদিকে এনজিওগ্রামের পর হার্ট অ্যাটক করায় ওই রোগীর মৃত্যু হয় বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ নভেম্বর নীলফামারী ডোমার উপজেলার বমুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মকসেদ আলী (৫০) রংপুর নগরীর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রাম করানোর জন্য ভর্তি হন। পরের দিন বিকাল ৪টার সময় ডা. আবু জাহিদ বসুনিয়া মকসেদ আলীর এনজিওগ্রাম পরীক্ষা শুরু করেন। এতে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলের কাছে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করিয়ে দ্রুত রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। অপারেশন চলাকালীন অবস্থায় মকসেদ আলী মারা যান।
এরপরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মকসেদ আলীকে জীবিত হিসেবে দেখিয়ে আইসিইউতে নেন। এতে স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে জোরপূর্বক আইসিইউতে ঢুকে মকসেদ আলীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ করেন।
এ সময় হাসপাতাল কর্মচারী ও তাদের সহযোগীরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
নিহতের ছেলে শাফিউল ইসলাম বলেন, অপারেশন রুমে বাবা শব্দ করেছিলেন। পরে যখন আইসিইউতে নেওয়া হয়, তখন বাবার শরীর কোনো প্রকার নড়াচড়া করেনি। আমি বুঝে গেছি বাবা আর নেই। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখানে ব্যবসা করার জন্য তাকে জীবিত বলে আইসিইউতে রেখেছে।
হাসপাতালের পরিচালক মিরাজুল মহসিন বলেন, রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি আইসিইউতে মারা যান। কিন্তু মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজনরা জোর করে আইসিইউতে ঢুকে ফেসবুক লাইভ করেন। এতে অন্য রোগীর সমস্যা হওয়ায় হাসপাতালের কর্মচারীরা বাধা দিয়েছিল।