বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৮ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:২৯ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিকালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে, গুরুতর আহত দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এদিন বিকালে একই সময় দুই গ্রুপের মিছিল হওয়ার কথা ছিল। মিছিলের প্রস্তুতিকালে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর সমর্থকদের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা ধাওয়া দিয়ে উপজেলার ওয়াপদা মোড়স্থ হারুন শপিং কমপ্লেক্সের নিচতালায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে। এ সময় খন্দকার নাসিরের সমর্থকরা দলটির কার্যালয়ের সামনে থাকা প্রায় ১৫টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় এবং দলীয় কার্যালয়সহ আশপাশের দোকানপাট ও শপিং কমপ্লেক্সটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি অগ্নিনির্বাপক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে গেলে বাঁধা দেয় নাসিরুল ইসলামের সমর্থকরা। পরে আগুন না নিভিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয় ফায়ার সার্ভিস।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক ও নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, নাসির গ্রুপ সমর্থিত নেতাকর্মীরা বহিরাগত লোকজন এনে আমাদের নেতাকর্মী ও অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝুনু মিয়ার সমর্থকরা উস্কানি দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লা আল মাসুম জানান, আহতাবস্থায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এমন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে ধারণা ছিলনা।