চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:১৪ পিএম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সেনেরহুদা গ্রামের বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মচারি গাফফার আলী আকাশকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে হত্যার সাড়ে ৫ মাস পর তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিউল আজম ও পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামানের উপস্থিততে আকাশের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আকাশ চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন কর্মচারী ছিলেন।
গত ২১ বিকালে অফিস শেষে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন আকাশ। পথিমধ্যে জয়রামপুর রেলস্টেশনের অদূরে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার পকেটে থাকা ছবি ও এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল- আকাশ হয়তো অসাবধানতাবশত ট্রেন থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। তাকে কেউ ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করবে এমন চিন্তা নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী ধারণা করেনি। পরে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ওই দিন রাতেই আকাশের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে রেলওয়ে পুলিশ। পরের দিন সকালে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
তবে ট্রেনে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীর মারফতে জানা যায়, অসাবধানতাবশত নয়, তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। একথা জানার পর নিহতের বাবা জিন্নাত আলী বাদী হয়ে গত ২৬ মে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ওইদিন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্বরত জুনিয়র টিটিই লালন চক্রবর্তী (৪২), জিআরপির এসআই পারভেজ (৩৬), কনস্টেবল কাদের (৪০), অ্যাটেন্টডেন্ট মিলন (৩৭) ও সোহাগ মিয়াসহ আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন এবং টাকা না দিতে চাইলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রতিবাদ করায় সৃষ্ট বাগবিতণ্ডার জেরে আসামিসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মিলে আকাশকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলাটি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশে আকাশ হত্যা মামলাটি ঝিনাইদহ পিবিআইয়ে তদন্তাধীন।