রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ১৭:৪৪ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫ ২২:২০ পিএম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকায় মিলছে এনআইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধন। এমন একটি চক্রের সন্ধান মিলছে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ফজুমিয়ারহাট বাজারে। ওই চক্রের মূলহোতা হিসেবে ফজুমিয়ারহাট বাজারের কম্পিউটার দোকানদার মো. জহির উদ্দীনের নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে এনআইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি, বয়স বাড়ানো-কমানো ও নামে-বেনামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত জহির চরকাদিরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল খায়েরের ছেলে। পেশায় ফজুমিয়ারহাটের একজন কম্পিউটার দোকানদার।
এর আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সিমের মালিকানা, কললিস্ট (সিডিআর), জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডেটা, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য বেচাকেনার অভিযোগে চক্রটির অন্যতম সদস্য সিয়াম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জহির এসব মাত্র ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকার বিনিময়ে তৈরি করে দিচ্ছেন- ভুয়া এনআইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধন সনদসহ সব ধরনের কাগজপত্র। চক্রটি বছরের পর বছর ধরে তৈরি করে আসছেন নকল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)। এনআইডি ব্যবস্থাপনায় নজরদারির অভাব ও উপজেলা প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় নকল কার্ড তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, এমন তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। আর সবকিছু জেনেও স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচন অফিসার ও ইউনিয়ন পরিষদ শাস্তিমুলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠে চক্রটি। দেদারসে চালাচ্ছে- নকল আইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধন তৈরির কার্যক্রম।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবদুল ওয়াদুদ জানান, এগুলো মূলত ব্যবহার করা হয় ব্যাংক ঋণ, জমি জালিয়াতি, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও বিদেশগামীদের মেডিকেলের কাজে। ভুয়া এনআইডি কার্ড প্রদান করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও এই চক্র নাম ও ছবি ঠিক রেখে অন্যান্য তথ্য পরিবর্তন করে নকল কার্ড তৈরি করে থাকেন। এসব অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
যাদের আসল এনআইডি আছে তাদের কাছেই এসব নকল কার্ড বিক্রি করা হয়। এসব কার্ডের বেশিরভাগই ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়াও, জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির জন্য ছবি পরিবর্তন করে নকল এনআইডি কার্ড তৈরি করে থাকে চক্রটি।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় মো. অব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তিনি জানান, ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে জহিরের কম্পিউটার দোকান থেকে একটি এনআইডি কার্ড তৈরি করেছেন তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ইউএনও তাকে অফিসে ডেকে একটি মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন। কিন্তু মূল অপরাধী জহির বেঁচে যায়। আরেক ভুক্তভোগী নয়ন আক্তার বলেন, তার এনআইডি কার্ড নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট এলাকায়। এই কার্ড সংশোধন করতে তিনি জহিরের কম্পিউটার দোকানে গেলে সাড়ে ৩শ টাকা নিয়ে ঠিকানা পরিবর্তন করে একটি আইডি কার্ড তৈরি করে দেন। কিন্তু নির্বাচন অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে সার্চ করলে বিষয়টি ধরা পড়ে।
অভিযুক্ত মো. জহির উদ্দীন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আমার কম্পিউটার দোকান থেকে এগুলা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু অন্য কেউ করেছে। এসব কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলেও জানান।
চরকাদিরা ইউনিয়নের সচিব শাহাদাত হোসেন বলেন, জহিরকে আমরা কয়েকবার সতর্ক করার পরেও সে এসব নকল আইডি তৈরি করছে। ইউএনও স্যারকেও আমরা অবগত করেছি।
চরকাদিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হারুন বলেন, তাকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সে মানছেনা। ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, এর আগেও এই ধরনের একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।