ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৪৯ পিএম
ভোলায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির (বিজেপি) পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উভপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১ টার দিকে ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় পৌর ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকাল থেকে ভোলা জেলা বিএনপি ও জাতীয় পার্টি (বিজেপির) অফিসের সামনে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি চলছিল। দুপুর ১২ টার দিকে বিজেপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নতুন বাজারে তাদের দলীয় অফিসের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে সদর রোড হয়ে চক বাজার দিয়ে দলীয় অফিসের সামনে গিয়ে শেষ করেন। এসময় তারা সমাবেশ করেন। অন্যদিকে মহাজনপট্টি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করে নেতা-কর্মীরা। পরে নতুন বাজার পৌর ভবনের সামনে আসলে উভপক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি ছোঁড়াছুড়ি হয়।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে জেলা বিএনপি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম জানান, পূর্ব ঘোষিত জেলা বিএনপির সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে।পরে পৌর সভার কাছে আসলে জাতীয় পার্টির (বিজিপি) নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে বিএনপির ও তার অঙ্গসংগঠনের কয়েকন নেতা-কর্মী আহত হন।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে থেকে তাদের অঙ্গসংগঠনের একটি কর্মসূচি ও মিছিল ছিলে। মিছিল শেষে তারা দলীয় অফিসের সামনে আসেন। কিছুক্ষণ পরে বিএনপির একটি মিছিল এসে তাদেরকে ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছুঁঁড়ে এবং মারধর করে। এঘটনায় তাদের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তার দাবি বিএনপির এক গ্রুপ বিএনপি-বিজেপির ঐক্য নষ্ট করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. তৈয়বুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতালে উভপক্ষের ৪৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। ৮ জনকে বরিশাল রেফাড করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েকজন এখন ভর্তি রয়েছেন।
ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাইন পারভেজ জানান, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখানে বড় ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।