× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রামেক হাসপাতাল

কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা, সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষ

রাজশাহী অফিস

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৩৯ পিএম

কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা, সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন কর্তৃপক্ষ

কুষ্ঠিয়া থেকে পেটে ব্যথা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন আসমা বেগম। ইমারজেন্সি বিভাগ থেকে তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আসমা জানান, এখনও তার অসহ্য ব্যথা হচ্ছে। রাতে একটা প্রেসক্রিপশন দিয়ে ওষুধ আর ইনজেকশন বাইরে থেকে কিনে আনতে বলে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকালে এক দফা ডাক্তার দেখে গেছে। এর পর সারাদিন আর ডাক্তারের কোনো খবর নেই। ওয়ার্ডে বেড ফাঁকা না থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দায় জায়গা করে কোনোরকমে থাকতে হচ্ছে চিকিৎসার জন্য। শুধু আসমা বেগমই নয়; রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীরই এমন অভিযোগ।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, এই হাসপাতালে ভর্তির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মেলা না। পর্যাপ্ত সংখ্যক বেড না থাকায় রোগীদের হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্স চিকিৎসার কাজ করে। অধিকাংশ ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালটির বিদ্যামন জনবল ও ওয়ার্ডগুলোর ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীকে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। রামেক হাসপাতালে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন ২৮০ জন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ২২০ ও নার্স রয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। এই সংখ্যক জনবল হাসপাতালটির পরিধি বা হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনুপাতে কম।

৫৩০ শয্যা নিয়ে ১৯৫৮ সালের প্রতিষ্ঠিত রামেক হাসপাতালের বর্তমান শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ২০০। তবে জনবল রয়েছে সেই ৬০০ বেডের। এই হাসপাতালটিতে বহির্বিভাগসহ ৫৮টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ৫৮টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ২০০ বেডের বিপরীতে গত ৩০ অক্টোবর রোগী ভর্তি ছিলেন ৩ হাজার ১০৫ জন। ফলে অধিকাংশ রোগীকেই ওয়ার্ডগুলোর মেঝেতে বা বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীর অনুপাতে চিকিৎসক কম থাকায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

রামেক হাসপাতালের ইমাজেন্সি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শঙ্কর কে. বিশ্বাস বলেন, উত্তরবঙ্গের সবচাইতে বড় হাসপাতাল এটি। এখানে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বিপুলসংখ্যক রোগীও চিকিৎসা নিতে আসেন। ১ হাজার ২০০ বেডের হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ জন। তাদের সঙ্গে থাকে আরও দুই থেকে তিন জন এটেনডেন্ট (স্বজন)। অর্থাৎ প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। ধারণ ক্ষমতার বাইরে এই অতিরিক্ত রোগীকে যখন চিকিৎসা দিতে হচ্ছে তখন স্বভাবতই আমাদের ডাক্তার, নার্স বা সাপোর্টিং স্টাফদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ওষুধ পথ্য থেকে শুরু করে জনবল সংকটতো আছেই। আমরা বারবার আমাদের চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করে আসছিÑ যাতে আমাদের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধিসহ জনবল বৃদ্ধি করা হয়। আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এই বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১৫০ জন। এতে রোগীরাও যেমন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি ডাক্তারদের ওপরেও অমানবিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

রাজশাহীতে পৃথক বিশেষায়িত হাসপাতালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এদিকে টারশিয়ারি লেবেলের হাসপাতাল হওয়ায় আমাদের রোগী রেফার্ড করে অন্যত্র প্রেরণের সুযোগ নেই। তাছাড়া রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল যেমন জেনারেল হাসপাতাল বা শিশু হাসপাতাল নেই। এ ধরনের হাসপাতাল থাকলে হয়তো আমদের ওপর চাপটা কিছুটা কমতো। তার পরেও আমরা কোনো রোগী ফিরিয়ে দেই না বা রামেক হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যায় না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা