শাহ্ আলম মন্ডল, বিরামপুর (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৫৬ এএম
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামে দেখা মিলবে জাকিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আলীর খামারের। খামারের প্রবেশমুখ দেখলে কিছু বোঝা না গেলেও খানিকটা ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে শতাধিক গরুর একটি বিশাল খামারের। খামারটির মালিক মুকুন্দপুর ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আলী। তার চলার পথটা সহজ ছিল না। শুরুর দিকে বেশ কয়েকবার হোঁচট খেয়েছেন। তবে দমে যাননি।
পরিবারের সদস্যদের উৎসাহে ২০১০ সালে দুটি দেশি গরু দিয়ে শুরু করেন শখের খামার। এর বছর পাঁচেক পর আধুনিক শেড দিয়ে শুরু করেন বাণিজ্যিক খামার। তার খামারে এখন বিদেশি ফ্রিজিয়ান জাতের ১১৫টিরও বেশি গরু-বাছুর রয়েছে। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয় এই খামারে। শুধু গরু লালন-পালন নয়, এর পাশাপাশি তিনি ভেড়াও পালন করছেন। বছর তিনেক আগে ভেড়ার খামারও শুরু করেছিলেন মাত্র দুটি ভেড়া দিয়ে। এখন প্রায় ৫০টি ভেড়া রয়েছে। এখান থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
২০২১ সালে সাড়ে ১০ বিঘা জমির ওপর আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে খামারটি। গরু চুরি থেকে রক্ষা করতে রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক পাহারাদার। খামার পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখা, গরুগুলোকে সময়মতো খাবার দেওয়া এবং গরুর যত্ন নেওয়াসহ খামারের বিভিন্ন কাজের জন্য রয়েছে ৬ জন শ্রমিক ও ১ জন ম্যানেজার। খড় ও ঘাস কাটার জন্য রয়েছে একটি মেশিন। পাশাপাশি তার খামারে কয়েকজন বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। জাকিরুলের খামারটি দেখতে এবং পরামর্শ নিতে আসছেন অনেকেই। এদিকে খামারের গরু ও ভেড়া লালন-পালনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জাকিরুল ইসলাম জানান, তার গরুর খামারে এখনও ৬০টি গরু পালনের জায়গা খালি রয়েছে। নিজ চেষ্টায় এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তিনি খামারটি এতদূর নিয়ে এসেছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তিনি খামারটি আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের খামার তৈরি হলে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে এবং অনেকের বেকারত্ব দূর হবে। খামারের উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের বা বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের কঠিন শর্ত শিথিল করে সহজ শর্তে প্রয়োজনীয় ঋণের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, বিরামপুর উপজেলায় ছোট-বড় ৫২২টি গরুর খামার রয়েছে। খামারের গরু পালনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। খামারগুলো থেকে স্থানীয়ভাবে দুধের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুধ সরবরাহ হচ্ছে। এ ছাড়াও এলাকার মাংসের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গরুও সরবরাহ করা হচ্ছে।