টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ২০:৩৯ পিএম
কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন অরণ্যের পাহাড় থেকে মুক্তিপণ আদায় ও মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ২২ জনকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জনই রোহিঙ্গা ও ১ জন বাংলাদেশি নাগরিক। রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশু ৭, নারী ৪ ও পুরুষ রয়েছে ১০ জন।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) টেকনাফের হাতিয়ারঘোনা এলাকার করাচিপাড়ার পাহাড় থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারের পাশাপাশি সাগরপথে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানব পাচারকারী চক্র।
র্যাব-১৫ সূত্র জানায়, গত ২৬ অক্টোবর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল হাতিয়ারঘোনা করাচিপাড়ার দুর্গম পাহাড়ে দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ রুদ্ধশ্বাস অভিযানে মুক্তিপণ আদায় ও জোরপূর্বক মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটক ২২ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, অভিযানের সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে ভিকটিমদের জবানবন্দি, র্যাবের গোয়েন্দা তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার ভিত্তিতে পাচারকারী চক্রের সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকৃত ভিকটিম মোবারক (১৭) জানায়, গত ১৩ অক্টোবর বিকাল তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে সিএনজি যোগে অপহরণ করে করাচিপাড়ার পাহাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে এবং পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অপর ভিকটিমদেরও বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকা থেকে অপহরণ করে একইভাবে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দিলে মালয়েশিয়ায় পাচার করার হুমকি দেওয়া হয়। মুক্তিপণ না পেয়ে পাচারকারীরা ভিকটিমদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীর পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং প্লায়ার্স দিয়ে আঙুলের নখ তুলে ফেলা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।