পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৪৭ এএম
এই কাঠের খাঁচার ভেতরেই বন্দী জীবন কাটছে অরণ্যর। প্রবা ফটো
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নখারপাড়া হিন্দু পল্লীতে কাঠের খাঁচার ভেতর বন্দী দশ বছরের অরণ্য বাবুর জীবন যেন এক নীরব বেদনার গল্প। অরণ্যের জন্মের মাত্র ছয় মাস পর থেকেই তার শরীরে দেখা দেয় জটিল অসুস্থতা। ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে সে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তার ঠিকানা কাঠের খাঁচাÑসেখানেই তার দিন-রাত, সকাল-দুপুর, হাসি-কান্না, জীবনের সব কিছু।
অরণ্যের বাবা শ্রী সন্তোষ মহন্ত ও মা শ্রী পপি রানী জানান, জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন ডাক্তার ও কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন তারা। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। বছরের পর বছর চিকিৎসা করতে গিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। একদিন কাজ না করলে চুলায় আগুন জ্বলে না এই পরিবারের। অভাবের তাড়নায় প্রতিদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বের হন অরণ্যের বাবা-মা। এ সময় অসহায় অরণ্যকে রেখে যান সেই কাঠের খাঁচার ভেতরেই।
মাত্র এক শতক জমিতে টিনের বেড়া দেওয়া একটি ছোট ঘরে বসবাস করে অরণ্যের পরিবার। ঘরের চাল ফুটো; বৃষ্টি পড়লে ভিজে যায় ঘর, ভিজে যায় অরণ্যও। তবুও সেই খাঁচাই যেন তার নিরাপদ আশ্রয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অরণ্যের পরিবারের দুঃখ-কষ্টের কথা আমরা জানি। ইতিমধ্যে তার জন্য একটি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি হুইলচেয়ারও দেওয়া হয়েছে।’
অরণ্যের অসহায় জীবনের এই করুণ চিত্র স্থানীয়দের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায়Ñকখন এই খাঁচা ভেঙে অরণ্য পাবে মুক্ত আকাশের আলো-বাতাসে ভরা নতুন জীবন।